মশার কামড়ে অতিষ্ঠ ঈশ্বরদীবাসী। ঘরে বাইরে, রাতে-দিনে সবখানেই মশার উৎপাত। চারদিকে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। সন্ধ্যার পর বাসা-বাড়িতে মশার উৎপাত চরমে পৌঁছায়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। শুধু বাসায় নয়, মশার এই উপদ্রব ছড়িয়েছে অফিস, হাট-বাজারসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। ড্রেন, নর্দমা ও জলাশয়গুলোতে অতিরিক্ত আবর্জনা থাকার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উৎপাত বেড়ে গেছে। সন্ধ্যা হলেই বাড়ি-ঘরে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা প্রবেশ করছে। মশা তাড়াতে কয়েল, স্প্রে এমনকি মসকিউটো ব্যাট ব্যবহার করেও প্রতিকার মিলছে না। বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, হাসপাতাল, সবখানে শুধু মশা আর মশা। এদিকে মশার এমন উপদ্রবের পরও পৌর কর্তৃপক্ষ নীরব থাকায় পৌরবাসী চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে তাদের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ড্রেনে কিছু ওষুধ ছিটানোর মধ্যে আটকে আছে তাদের সকল কার্যক্রম।
পৌর শহরের বাসিন্দা কলেজশিক্ষার্থী সাইফ হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে এত মশার উপদ্রব যে, সন্ধ্যার পর পড়তে বসা যায় না। কয়েল জ্বালিয়েও মশার কামড় থেকে রেহাই পাই না।’ সায়েম হোসেন নামে আরেক স্কুল শিক্ষার্থী বলে, ‘চারদিকে শুধু মশা আর মশা। সন্ধ্যার পর মশার যন্ত্রণায় স্থিরভাবে বসতেও পারি না। পড়ালেখাও করতে পারি না।’ পিয়ারপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মশার উৎপাত এত বেশি যে, সন্ধ্যার পর কয়েল জ্বালিয়েও ঠিকমতো বসে থাকতে পারি না।’
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, ‘নারী মশা সারা বছরই ডিম পাড়ে। তবে শীত শেষে গরম শুরু হলে মশা ডিম বেশি পাড়ে। এ সময়টায় মশার বংশ বৃদ্ধি ঘটে। এই মশা সাধারণত ড্রেন, ডোবা, নর্দমা ও পচা পানিতে জন্মায়। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘আগে মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া জ্বর হতো, কিন্তু সেটা এখন কমে গেছে। তবে এডিস মশার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। এডিস মশার কামড়ে জীবন বিপন্ন হচ্ছে। এ জন্য বাসা-বাড়ির ছাদে, আশপাশের কোনো টবে যেন ময়লা পানি জমে না থাকে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নর্দমার পানিতে, ঝোপ-ঝাড়ে মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইড ওষুধ প্রয়োগ করা হলে মশার বংশবৃদ্ধি কমে যাবে। মশার বৃদ্ধি ঠেকাতে হলে এখনই নিধন কার্যক্রম শুরু করার উপযুক্ত সময়। তা না হলে মশার উপদ্রব আরও বাড়বে।’
ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘পৌর এলাকায় ড্রেন, ডোবা, ঝোপ-ঝাড়ে মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মশা যেন বংশবৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য শিগগিরই ফগার মেশিন দিয়ে মশা মারার কার্যক্রম শুরু হবে।’