একটু পরই মাগরিবের আজান হবে। চারপাশে স্বেচ্ছাসেবকদের হাঁকডাক। কেউ রোজাদারদের হাতে ইফতারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। কেউ আবার তুলে দিচ্ছেন পানির বোতল। এ দৃশ্য নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌর এলাকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের হঠাৎ বস্তি এলাকার। গতকাল বুধবার সেখানে দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য ইফতারের আয়োজন করে কুতুবুল আলম চ্যারিটি ফাউন্ডেশন। শতাধিক রোজাদার ব্যক্তির মাঝে তারা ইফতার বিতরণ করে।
সৈয়দপুরভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী ইকু গ্রুপের সহযোগিতায় ফাউন্ডেশনটি রমজান মাসজুড়ে বিনামূল্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তাদের মানবিক এই উদ্যোগে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই তারা দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করছেন। প্রথম দিন বিকেলে সৈয়দপুর শহরের পাঁচমাথা মোড় এলাকায় কয়েক শ রোজাদারের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, টানা চার বছর ধরে তারা রমজান মাসে ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন দুই শতাধিক রোজাদারের হাতে ইফতারসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে। পৌর এলাকার ১৫টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে ইফতার বিতরণ করা হবে।
ইফতারের প্যাকেটে থাকছে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, জিলাপি। সেই সঙ্গে পানি। অনেক সময় পথচলতি রোজাদারদের হাতে সরাসরি ইফতার তুলে দেওয়া হয়, যাতে কেউ ইফতারের সময় খাওয়ার সংকটে না পড়েন।
কুতুবুল আলম চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইরফান আলম ইকু বলেন, ‘মানবতার খাতিরে আমরা প্রতিবছর এই আয়োজন করে থাকি। রমজানের পবিত্রতা ও রহমত যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের ঘরে পৌঁছায় সেই লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা মাসব্যাপী ইফতারসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখব। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
ইফতার বিতরণ কার্যক্রমে প্রতিনিয়ত অংশ নিচ্ছেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এম আর আলম ঝনটু, সদস্যসচিব নওশাদ আনসারী, সদস্য সামিউল আলিম, আলমগীর হোসেন, খন্দকার আবিদা সুলতানা, রাজা, আরিফ, রাব্বিনহ আরও অনেকে। তারা প্রত্যেকেই স্বেচ্ছাসেক হিসেবে মাঠে কাজ করছেন। ইফতার প্রস্তুত থেকে প্যাকেটজাত ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ তারা নিজেরাই তদারকি করেন।
কথা হয় উপকারভোগীদের সঙ্গে। তারা জানান, এই উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা দিন রোজা থেকে ইফতারে ভালো কিছু খেতে পেরে তারা খুব খুশি।
রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘সারা দিন রোজা রেখে রিকশা চালাই। অনেক সময় ঠিকমতো ইফতার খেতে পারি না। এখানে এসে ইফতার পেয়ে ভালোই হলো। আমার মতো অনেকেই এখান থেকে ইফতার নিয়ে রোজা ভাঙেন।’
দিনমজুর আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষদের জন্য এমন আয়োজন করায় আমরা অনেক খুশি। গত বছর রমজানেও আমি তাদের কাছ থেকে ইফতার পেয়েছি, এবারও পেলাম।’
ভ্যানচালক সোহেল বলেন, ‘প্রতিদিন কাজ শেষে ইফতারের চিন্তা থাকে। এই উদ্যোগ আমাদের চিন্তা কিছুটা হলেও কমিয়েছে। তারা রমজান মাসজুড়ে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করেন। এতে অনেক গরিব মানুষের উপকার হয়।’