শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের জিন মসজিদখ্যাত তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদটি ৪০০ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে জরাজীর্ণভাবে আজও দাঁড়িয়ে আছে। শরীয়তপুর জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বে এর অবস্থান।
কে-কখন মসজিদখানা নির্মাণ করেছেন তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কারও কাছে নেই। মসজিদ-সংলগ্ন তালুকদার পরিবারের বংশপরম্পরার দেওয়া তথ্যানুযায়ী এর বয়স ৪০০ বছর। মতান্তরে ৪৫০ বছর বলে জানা যায়।
মসজিদটি সম্পর্কে স্থানীয় নানা মিথ রয়েছে। প্রচলিত আছে, স্থানীয় কোনো এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ শুরু করলেও নির্মাণ শেষ না হতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর অসমাপ্ত কাজ এক রাতের মধ্যে জিনরা করে দেন। জিনরা এখানে নামাজ, জিকির, ইবাদত-বন্দেগি করতেন বলেও মিথ রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনও বিশ্বাস করেন।
৪ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত চতুর্ভুজাকৃতির এ মসজিদটি কালের পরিক্রমায় সবকিছু হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এক গম্বুজ ও চারপাশে চারটি চিকন খুঁটির ওপর ছোট খিলানাকৃতির গম্বুজের ওপর কালের সাক্ষী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে জিন মসজিদ।
এর চারপাশের মেঝে পাকা। মূল মসজিদ ভবনের প্রবেশপথ চারটি। ভেতরের দেয়ালের কারুকাজে মোগল স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন রয়েছে। এখানে ত্রিশজন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে এখানে জুমা, পাঞ্জেগানা ও ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। মসজিদ-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে বিশাল পুকুর রয়েছে এবং পুকুরের পাকা ঘাট এখনো টিকে আছে, যা জিন দ্বারা তৈরি বলে স্থানীয়রা জানান।
মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক সালাম তালুকদার বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছি, এটা এক রাতে জিনরা তৈরি করেছে। জিন তৈরি করেছে এ বিশ্বাস থেকেই সবাই এটাকে জিন মসজিদ বলে থাকেন। তবে আমাদের কাছে তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘৪০০ বছর অতিবাহিত হলো কিন্তু মসজিদটি মেরামত করার উদ্যোগ কেউ নেয়নি। অনেক লোক আসে এখানে, মেরামতের কথা দিয়ে যায় কিন্তু পরে আর খবর নেয় না। টেলিভিশনে পত্রিকায় অনেক সংবাদ প্রচার হলো, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলো না।’
মসজিদের ইমাম নূর ইসলাম বেপারী বলেন, আমি ১৭ বছর ধরে এখানে ইমামতি করি। এটি ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ। তিনি সরকারের কাছে প্রাচীন এই মসজিদটি মেরামত করে ধ্বংসের হাত থেকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস