ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কুমার নদের তীরে সরকারি খাসজমিতে প্রায় তিন দশক ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বেদে সম্প্রদায়ের ১৪টি পরিবার। নিজস্ব জমি বা স্থায়ী ঘরবাড়ি নেই তাদের। কাঠের পাটাতনের ওপর ছোট ছোট ঝুপড়ি ঘরে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেই দিন কাটছে প্রায় ৪০ জন সদস্যের।
নদীতীরবর্তী হওয়ায় বর্ষা মৌসুম এলেই চরম দুর্ভোগ নেমে আসে। পানি বাড়লে পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়ে। টিন বা পলিথিনের ছাউনির ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে বিছানা-বালিশসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। ভাঙনের ঝুঁকি তো রয়েছেই। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও ভয় নিয়ে বসবাস করছেন তারা।
১৯৯৬ সালে ৪০টি বেদে পরিবার এখানে বসবাস শুরু করে। কিন্তু বন্যা, নদীভাঙন ও চরম দারিদ্র্যের চাপে সময়ের সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ২৬টি পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। অর্থাভাবে বাকি ১৪টি পরিবার এখনো একই স্থানে রয়ে গেছে- নিরাপদ বিকল্পের অভাবে নদীর পাড়ই তাদের একমাত্র ঠিকানা।
ভূমিহীনদের জন্য গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলেও আবেদন করার পরও এই পরিবারগুলোর কেউ ঘর পায়নি। সরকারি সহায়তার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও তারা স্থায়ী আশ্রয় থেকে বঞ্চিত।
এ বিষয়ে সীমা নামের এক বেদে নারী বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামে ঘর পাওয়ার জন্য আমরা ১৪টি পরিবার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু একটি পরিবারকেও ঘর দেওয়া হয়নি।’
বেদে সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবে মাতৃতান্ত্রিক, নারীরাই পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী। সাপের খেলা দেখানো, তাবিজ-কবজ বিক্রি, শিঙ্গা লাগানো- এসব পেশার ওপরই নির্ভর করত তাদের জীবিকা। কিন্তু আধুনিকতার প্রভাবে এসব পেশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। আয় কমে যাওয়ায় পরিবারগুলো আরও গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এসব পরিবারকে দ্রুত পুনর্বাসন করার জন্য আমরা কাজ করব।’