পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের পূর্বাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। এ বছর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ ট্রেন, বাড়তি ইঞ্জিন যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, যাত্রীর চাপ বাড়ায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনে ১০৫টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ৭৫টি ইঞ্জিন নিয়ে চলাচল করা আন্তঃনগর ট্রেনে আরও ১০টি ইঞ্জিন বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া আটটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। এর মধ্যে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২ চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর আসা-যাওয়া করবে। এর যাত্রী ধারণক্ষমতা ৬৬৮ জন। এ ছাড়া তিস্তা স্পেশাল-৩ ও ৪ ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ যাত্রা করবে, প্রতিটি ট্রেনের সক্ষমতা ৫১৪ জন। এই ট্রেনগুলো ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পর দুই দিন বাদে পরবর্তী সাত দিন চলবে।
চাঁদপুর স্পেশাল-১ চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে, স্পেশাল-২ চাঁদপুর থেকে বিকেল ৪টায় ছাড়বে। তিস্তা স্পেশাল-৩ ঢাকা থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এবং স্পেশাল-৪ দেওয়ানগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে।
ঈদের দিন চারটি বিশেষ ট্রেন শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ৫, ৬, ৭, ৮ নামে চলাচল করবে। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা ২৭৪ জন। শোলাকিয়া স্পেশাল ৫ ও ৬ ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে চলবে। শোলাকিয়া স্পেশাল ৭ ও ৮ ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ ও ফিরতি রুটে চলাচল করবে। ভৈরববাজার থেকে ছাড়বে সকাল ৬টায়, ময়মনসিংহ থেকে ৫টা ৪৫ মিনিটে। কিশোরগঞ্জে পৌঁছবে যথাক্রমে ৮টায় ও ৮টা ৩০ মিনিটে। দুই ট্রেনই কিশোরগঞ্জ থেকে দুপুর ১২টায় ছেড়ে যাবে।
আন্তঃনগর ট্রেনের সময়সূচি আগের মতোই থাকবে। ঈদের তিন দিন আগে ও পরে সব ধরনের ট্রেন চলাচল করবে। সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করায় ছুটির দিনেও ট্রেন নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী চলবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে ১০৫টি কোচ সংস্কার ও ট্রেনে যুক্ত করার কাজ চলছে। পুরোনো কোচকে রঙ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্কশপে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো রয়েছে বগি। পুরোদমে চলছে পুরোনো কোচ সংস্কার ও মেরামতের কাজ। বগি সংস্কারের ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের ওয়াকর্স ম্যানেজার রাজীব কুমার দেবনাথ বলেন, ১০৫টি কোচ সংস্কার করে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। আরও ২০টির চাহিদা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে কাজ করছেন। গত বছর ৯০টি কোচ যোগ করা হয়েছিল। এবার তা ১০৫টি করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে আরও কিছু কোচ ডেলিভারি দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদকে কেন্দ্র করে ট্রেনে যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিশেষ ট্রেন চালু, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, কোচ মেরামত ও অগ্রিম টিকিট বিক্রিসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাত্রা করতে পারবেন।
এদিকে নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্টেশন ও ট্রেনে দায়িত্ব পালন করবে। টিকিট কালোবাজারি, ছিনতাই ও অন্যান্য অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী সুবিধার জন্য আগে থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট কিনে যাত্রীরা সহজে যাত্রা করতে পারবেন।