চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন আছে জেলা হাসপাতালে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪২ নম্বর সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ‘গাক’ নামক একটি এনজিওর পক্ষ থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম ও পাউরুটি বিতরণ করা হয়। তবে সরবরাহকৃত খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা ওই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। তবে ভিন্ন কথা বলছেন খাবার বিতরণকারী ‘গাক’ এনজিওর কর্মকর্তা কবির উদ্দিন।
তিনি বলেন, আজকে ২১৩টি স্কুলে ৪১ হাজার ৭শ ৩৯টি ফিডিংয়ের খাবার (ডিম ও পাউরুটি) বিতরণ করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে ওই স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল না। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। খাবার খেয়ে পেটব্যথা হয়েছিল, তার ওপর আবার আবহাওয়া খারাপ। বর্তমানে তাদের স্যালাইন দিয়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণে রাখছি।
আসাদুল্লাহ/আমান
মায়ানমার থেকে আসা কিছু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভাষাগত মিলের কারণে তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সহজে মিশে যাচ্ছে, যা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা একথা বলেন।
বুধবার (১৭ জুন) চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।
কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া
এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এরকম রোগী বাইরে কতজন ঘুরাফেরা করছে তা আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
অপরদিকে, ২০২৫ সালে সারাদেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৮৯১ জন। যার মধ্যে ২১৭ জন রোহিঙ্গা।
আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ আর টি সেন্টারে ৩৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে পজিটিভ ৮১ জন, নেগেটিভ ৩৮৬১জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। যার মধ্যে ১৫ জন মারা যায়।
আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হচ্ছে তার শরীরে এইডসের প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘর সংসার করতে পারেন। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছেন।
সন্তানদের শরীরে এইচআইভি’র জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফসল। এই ইতিবাচক দিকের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে।অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন। কারণ তারা জানে এইচআইভি আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম।
দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।
আমান/
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত ও তা গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সংযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মুক্তাগাছার হোটেল ড্রিম ট্রিম মিলনায়তনে ‘প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার’-এর ইআরইডিএমসিএম প্রকল্পের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের মূলধারায় তাদের কার্যকর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
মুক্তাগাছা উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সায়েম তানভীর সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবক, যুবদলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা, অভিভাবক ও যুবদলের নেতারা প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো চিহ্নিত করেন। এসব বাধা দূরীকরণে তৃণমূল পর্যায়ে সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সায়েম তানভীর বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এই প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের জনকল্যাণমুখী, অধিকারভিত্তিক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’
জয়ন্ত সাহা/নাঈম
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জে একটি অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা মিলনায়তনে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এ ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের রিজিওনাল ম্যানেজার ফারজানা আক্তার একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক জরিপের ফলাফল, সরকারি সেবাসমূহের পরিচিতি এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি নাসরিন বলেন, “নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও একটি বড় উদাহরণ। সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত ও সহজে সেবা পায়, সেজন্য বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজেরও দায়িত্ব। সহিংসতার কোনো ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শামসুন্নাহার বলেন, “তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মূল্যবোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। যুবসমাজকে এ বিষয়ে সম্পৃক্ত করতে হবে।”
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের প্রোগ্রাম অফিসার পারভীন বেগম বলেন, “নারী ও শিশুদের জন্য সরকার বিভিন্ন সেবা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব সেবার বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানাশোনা বাড়ানো গেলে ভুক্তভোগীরা আরও সহজে সহায়তা পাবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম, ব্র্যাকের আইন বিষয়ক কর্মকর্তা মো. তানভীর আহমেদ, কিশোরী ক্লাবের সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে পাশা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক ফরিদ খান নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে সবার অংশগ্রহণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।”
আসাদ জামান/এসএন
বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণার পর সিগারেটের দাম বাড়ায় ভারতীয় চোরাইপণ্যে ভারতীয় সিগারেট আসছে। বিজিবি সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) পৃথক অভিযানে ভারতীয় সিগারেটসহ প্রায় অর্ধ কোটি টাকার চোরাচালান জব্দ করেছে।
বুধবার (১৭ জুন) ১৯ বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় লক্ষীবাজার বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শেওলা জিরো পয়েন্ট নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিজিবির টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় পাঁচ হাজার ৯০০ প্যাকেট ভারতীয় সিগারেট ও একটি বাংলাদেশি পিকআপ জব্দ করে। জব্দকৃত মালামালের সিজারমূল্য ৪৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এর আগে ১৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর, লালাখাল ও সুরাইঘাট পৃথক পৃথক আভিযানিক টহল দল অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৬টি গরু, ২৬টি কম্বল, কিটক্যাট চকলেট ৫৫০ পিস, চিনি ২৮৭ কেজি, চা পাতা ৬৮ কেজি জব্দ করে। এসব মালামালের মূল্য ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার পিএসসি বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে গোয়েন্দা তৎপরতাসহ চোরাচালান বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং এরই অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস্ এ জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি'র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএন/