জীবিকার আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই যুবক। একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে ড্রোন হামলায় তাদের নিহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সোমবার (১৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ দুই যুবক হলেন- উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) এবং সিধুলী ইউনিয়নের রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (২৭)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান মাফুল ও আরিফ। মাফুলকে চাঁদপুরের এক দালাল এবং আরিফকে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সেখানে পাঠানো হয়। তাদের রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতারণার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ করেন তারা।
স্বজনদের দাবি, অর্থের বিনিময়ে দালাল চক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। বিদেশে যাওয়ার পর মাফুল ও আরিফ ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন, প্রতিশ্রুত কাজ না দিয়ে তাদের যুদ্ধের এলাকায় নেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সর্বশেষ গত ২৯ মে তাদের সঙ্গে কথা হয়। এরপর থেকে দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, ড্রোন হামলায় ওই দুই যুবক নিহত হয়েছেন বলে খবর রয়েছে।
মাফুলের মা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে কাজের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শুনছি সে আর বেঁচে নেই। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফেরত চাই। যারা তাকে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের বিচার চাই।’
মাফুলের বোন কণিকা বলেন, ‘আমার ভাইকে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার কথা বলে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে জানতে পারি, তাদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফোনে কাঁদতে কাঁদতে সে আমাদের বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিল। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনছি।’
এদিকে, আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ‘ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করানোর কথা বলে আরিফকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে তাকে পাঠানো হয়েছিল। গত ২৯ মে থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’
আরিফের চাচাতো ভাই আনন্দ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি, আরিফ রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে। গত ২৯ মে থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। ঋণ করে আরিফকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দালালরা প্রতারণা করেছে। কাজের কথা বলে তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।’
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী আজ দুপুরে জানান, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছি। দূতাবাসের মাধ্যমে না গিয়ে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিফাত/