আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেসরকারি সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সম্রাট রোবায়েত। নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে এ অভিযোগ করেছেন তিনি। তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগের এক দিন পরই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লিখিত এই অভিযোগ জমা দেন রোবায়েত।
এতে বলা হয়েছে, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং তার ঘনিষ্ঠ প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম, মো. মিজানুল ইসলাম ও তারেক আবদুল্লাহ মিলে একটি চক্র গড়ে চিহ্নিত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চালান। রোবায়েত অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্তে ৫৫ জনের বেশি সাক্ষী সরাসরি ফারাজ করিমের নাম বললেও বিশেষ আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে ফারাজের নাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থেকে বাদ দেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে ফারাজের মায়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ফারাজের মা রিজওয়ানা ইউসুফ সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর সাবেক স্ত্রী। ট্রাইব্যুনালের এই মামলায় সাবেক স্বামীর হয়ে লড়ছেন তিনি। আইজি প্রিজনের ভাষ্যমতে, অসুস্থতা ‘সিজনাল’ হওয়ার পরও এবং শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও ফজলে করিমকে জামিন দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা এই মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর ছিলেন মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। তার জামিন করিয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে গণমাধ্যামে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ গঠন করা হয়। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত এই কমিটি ইতোমধ্যে দুটি বৈঠক করেছে।
রোবায়েতের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যেহেতু আমাদের ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’ কাজ করছে, বৈঠক হচ্ছে, তদন্ত চলছে, তাই এ নিয়ে কোনো কথা বলতে পারব না। বলা উচিত হবে না।”