ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমালোচনার জবাব দিতে হয় পারফরম্যান্সে: রদ্রিগো ফ্লোরা সিস্টেমসের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের চুক্তি সম্পন্ন মাঠে নেইমারের প্রভাব ব্যাখ্যা করলেন দানিলো টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ডিএমপি সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যোগ্যতা এইচএসসি পাস লোডশেডিং বন্ধ হোক ‘বাংলাদেশ থেকেও বিশ্বমানের উমরা সেবা দেওয়া সম্ভব’ মন্ত্রীদের আচরণ যা হওয়া উচিত সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে দখল-দূষণে হারিয়ে যাওয়া শতবর্ষী নয়নের খাল পরিদর্শনে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মেধা পাচার: উন্নয়নের আড়ালে নীরব বিপর্যয় রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর চকরিয়ায় বাক প্রতিবন্ধী যুবককে ধাক্কা দিয়ে পালালো গাড়ি আগুন সন্ত্রাসীর তান্ডবে নির্ঘুম কৃষক, পাচ্ছেন দয়াও বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলবেন নয়্যার নোয়াখালীতে ১৭ বেডের হাম ওয়ার্ডে রোগী ৮৭ কৌশলগত সম্পর্কের পথে ঢাকা-বেইজিং নিত্যপণ্যের বাজারে নেই মূল্যতালিকা মধুখালীতে দুইদিনে দুই মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর কমল দাদার পাঠশালা এমপি আসলে আগে পায়ে একটা মেরে দিব: এমপির পিএ ও যুবদল কর্মীর অডিও ভাইরাল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৬ মেহেরপুর সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা বৃষ্টি মনোমুগ্ধকর খুনি প্রথম কবি দেখা ও কয়েক টুকরো স্মৃতি

আনন্দঘন দিনশেষে বিষাদের রাত

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
আনন্দঘন দিনশেষে বিষাদের রাত
ছবি: খবরের কাগজ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন দিনশেষে মধ্যরাতে কুমিল্লায় ঘটে গেছে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা।  ঈদ আনন্দ ম্লান করে দেওয়া সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। 

ঈদের দিন মধ্যরাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেল ট্রেনটি যখন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলওয়ে ক্রসিং অতিক্রম করছিল একই সময়ে গেটম্যানের সিগন্যাল না পেয়ে ক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে মামুন পরিবহনের একটি বাস। এতে বাস-ট্রেনের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষ। ট্রেনের মুখে আটকে থাকা বাসটিকে নিয়ে যাওয়া হয় এক কিলোমিটার দূরে। যার ফলে দুমড়ে মুচরে যায় বাসটি। হতাহত হন যাত্রীরা। 

পদুয়ার বাজার থেকে ১ কিলোমিটার উত্তরে কচুয়া চৌমুহনী এসে যখন বাসটি থামে তখন এর ভেতর থেকে বের হয়ে আসে যাত্রীদের আর্তনাদ। বেঁচে থাকার আকুতি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস; স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরে হাসপাতাল থেকে জানানো হয় ১২ জনের মৃত্যুর সংবাদ। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ দুইজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে।
 
চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার শরিফে ঈদ উদযাপন শেষে বাড়ি ফিরতে থাকা ট্রেনের যাত্রী ষাটোর্ধ্ব নুরুল ইসলাম বলেন, রাত পৌনে তিনটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। তখনও আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি, মিনিটখানেক পরে যখন ট্রেনটি থামে- নেমে দেখি ট্রেনের মাথা দিয়ে বাসটিক নিয়ে আসা হয়েছে প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি পথ। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের আত্মচিৎকারে হতবিহব্বল হয়ে পড়ি। শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন দুর্ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে বেশ কয়েকজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের লোকজন। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমার ৬০ বছরের জীবনে কখনো দেখিনি। 

ট্রেনের আরেক যাত্রী নরসিংদীর বাসিন্দা শাহানারা বেগম বলেন, রাতে যখন ট্রেনটি চলছিল আমরা কিছুটা ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে মনে হলো কোথাও বোমা ব্লাস্ট হয়েছে। ট্রেন থামার পর বুঝতে পারি যাত্রীবাহী একটি বাসকে টেনে হিচড়ে নিয়ে এসেছে ট্রেনটি। ভেতরে থাকা মানুষজন চিৎকার করছেন। 

দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর সূত্রে নিহতদের পরিচয় জানা যায়। এদের মধ্যে পাঁচজন রয়েছেন যশোর জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- যশোরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৩) এবং একই জেলার চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও কোহিনূর বেগম (৫৫)।

বাকিরা হলেন- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি বাবুল চৌধুরী (৫৫) ও ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫), চাঁদপুর জেলার চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহ জেলার মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুরের ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবন নগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫) এবং লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বলেন, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত চারটার দিকে। ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে আছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে।

দুর্ঘটনাস্থলে দুই মন্ত্রী
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মূলত গেটম্যানের অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনার ঘটেছে। এই ক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুজন গেটম্যানকে সামরিক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে রেলওয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। 

এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে কৃষি, খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন বলেন, দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখানে একটি উন্নতমানের গেট নির্মাণ করা হবে। যাতে করে গেটম্যান না থাকলেও অটোমেটিক গেট বন্ধ হয়ে যায়। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ ধরনের কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান বলেন, দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে রেলের পক্ষ থেকে দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

পালিয়েছে দুই গেটম্যান, সাময়িক বরখাস্ত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ওই রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর পরই তাদের দুইজনকে বরখাস্ত করেছে  রেল কর্তৃপক্ষ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। যাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’ 

ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে জামা-জুতো, মৃত্যুর চিহ্ন 
সকালে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারের রেলওয়ে কোচিং থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে লেপটে রয়েছে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি। বাসের ভাঙা গ্লাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। বাসের ভেতরে দুলছে নতুন একটি পোশাক। পাশেই পড়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বাটিভর্তি ভাত, কয়েক জোড়া স্যান্ডেল। পাশে দেখা গেল থেতলে যাওয়া কিছু ফলমূল। ঘটনাস্থলের ১০ থেকে ১২ গজ দূরে রেললাইনে বাসের দুটি চাকাও পড়ে থাকতে দেখা যায়। 

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান রাসেল বলেন, এই দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণ ক্রসিংয়ের গেটম্যানের কারণে ঘটেছে। সে এখানে ভালোভাবে ডিউটি করে না; নানা রকম নেশায় আসক্ত। তার এই অবহেলার কারণে এত বড় একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেল। ঈদের রাতে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। 

পুলিশের এক কর্মকর্তাও বললেন একই কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আহতদের বক্তব্য ও স্থানীয়ভাবে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে ঘটনার সময় গেটম্যান গেট না ফেলায় বাস রাস্তা ফাঁকা পেয়ে রেল লাইনে উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।

এদিকে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

জহির আহমেদ/অমিয়/

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (১৯জুন) দুপুরে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান (১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল (৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৯জুন) সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশেই পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের সময় তারা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে।

আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক খবরের কাগজকে জানান, তারা সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের বাড়ি নাল্লাপাড়া সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পাশেই। খেলার পর গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। এরপর সেই ফয়সালকে উদ্ধার করতে ১২ বছরের আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার কাজে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে মারা যান। এরপর পথচারীরা স্থানীয় লোকজনকে অবগত করেন এবং দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেলদুয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'এ ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জুয়েল রানা/থিওটোনিয়াস

মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবে বাড়ছে পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি
ছবি: খবরের কাগজ

চাঁদপুরের নদী উপকূলীয় এলাকায়  আড়ৎ ও বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙ্গাসের পোনা ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না নিয়ম নীতি। বড়ো সাইজের পাঙাশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হয় ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা। আর এই ছোট সাইজের পাঙ্গাসের পোনা বিক্রি হয় মাত্র ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি। মৎস্য বিভাগ বলছে, লজিস্টিক সাপোর্ট সহ লোকবল সংকটে নদী ও  আড়ৎ-তে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিন চাঁদপুর শহরের ওয়ালে বাজার, পালবাজার, বিপনীবাগ বাজার, মিশন রোড মোড়, বহরিয়া বাজারে এসব পাঙ্গাশের পোনা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও লালপুর, আনন্দ বাজার, চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, বহরিয়া মৎস্য আড়ত ও হরিণা মাছঘাটে খোলামেলা ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হরিণা মাছঘাটে দেখা গেল প্রতিটি  আড়ৎ-তে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশের পোনা। ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ এসব বিষয়ে কারও মধ্যে ন্যূনতম সচেতনতা নেই। পাশাপাশি সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঙ্গাশের পোনা রক্ষায় কোনো ধরনের অভিযানও নেই।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, 'ইলিশের জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা ধরা পড়ে। আগে কম ছিলো, এখন বেশি। ইলিশ আর পাঙ্গাশের পোনা আলাদা দরদামে বিক্রি হয়।'

ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল বলেন, 'গত বছর এই সময় নদীতে ছোট সাইজের প্রচুর পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গেছে। এবার ইলিশ না পাওয়া গেলেও ওইসব জালে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা বেশি ধরা পড়ছে। জেলেরা নদীতে নেমে যে-সব মাছ পায়, সবই  আড়ৎ-তে এনে বিক্রি করে। তবে ছোট সাইজের পাঙ্গাশের পোনা না ধরাই উত্তম। কারণ বড়ো হলে দাম বেশি।'

এই ঘাট থেকে পাঙ্গাশের পোনা কিনে শহরের বিপনীবাগ বাজারে বিক্রি করেন খুচরা ব্যবসায়ী শাহজাহান। তিনি বলেন, আজকে তিনি হরিণা ঘাট থেকে ৪ কেজি পাঙ্গাশের পোনা ক্রয় করেছেন ৬শ’ টাকা করে। এগুলো শহরে নিয়ে বিক্রি করবেন ৮শ’ টাকা কেজি দরে। এভাবে এই ঘাটে প্রতিদিন কয়েক মণ পাঙ্গাশের পোনা কেনা-বেচা হয়।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘৩০ সেন্টিমিটারের নিচে পাঙাশ মাছ ধরা সব সময়ের জন্য নিষিদ্ধ। জাটকা রক্ষায় আমরা যেমন : অভিযান করেছি, এখন করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। তারপরেও সদর মৎস্য অফিসকে অভিযান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

ফয়েজ আহমেদ/তামান্না রুপা/

শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
শেরপুরে ৩৩ টন সরকারি চাল জব্দ, ব্যবসায়ী আটক
জব্দ চাল ও ইনসেটে আটক ব্যাবসায়ী। ছবি: খবরের আগজ

শেরপুর শহরের একটি রাইস প্রসেসিং মিল থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৩ টন ১০০ কেজি চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১২টার দিকে শহরের চাপাতলী এলাকার জেবিন রাইস প্রসেসিং মিলে অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটক ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন (৩২) শহরের কসবা কাঠগড়া এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, ৩০ কেজির বস্তায় থাকা বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল অন্য বস্তায় স্থানান্তর করা হচ্ছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ওই মিল থেকে ৩৩ হাজার ১০০ কেজি সরকারি চাল জব্দ এবং ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনকে আটক করা হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল। এর আগেও বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি চাল কারসাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, জব্দ চাল কীভাবে এখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

শাকিল/নাঈম

সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
সাগরিকায় দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে গ্যালারি কানায় কানায় পূর্ণ
ছবি: খবরের কাগজ

মাঠে বল গড়ানোর অনেক আগে থেকেই স্টেডিয়ামমুখী মানুষের ঢল। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে গ্যালারিতে প্রবেশ করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম (সাগরিকা) এখন উৎসবের নগরী। ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টিম বাংলাদেশের লড়াই দেখতে গ্যালারি এখন দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ।

​শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে আসতে শুরু করেন দর্শকরা। ম্যাচ শুরু হতেই গ্যালারি থেকে আসা গগনবিদারী স্লোগান আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো সাগরিকা অঞ্চল। বন্দরনগরীর দর্শকদের এই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও অকুণ্ঠ সমর্থন মাঠে ক্রিকেটারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে  ব্যাটারদের চাপে রাখার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের বোলাররা। আর মাঠের প্রতিটা ভালো ডেলিভারি ও ফিল্ডিংয়ের কৃতিত্ব দর্শকরা উদযাপন করছেন করতালির মাধ্যমে।​ সাগরিকার এই চেনা গর্জন ও দর্শকদের বিপুল উপস্থিতি মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত একটি রোমাঞ্চকর জয় উপহার দেবে-এমনটাই প্রত্যাশা চট্টগ্রামের ক্রিকেটপ্রেমীদের।

প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার চট্টগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ হেরেছিলো স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ম্যাচ হারলে হবে সিরিজ পরাজয়। তাই জেতার জন্য লড়ছে বাংলাদেশ।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ক্রিকেট দেখতে আসা রফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, আজ বাংলাদেশকে অবশ্যই জিততে হবে। শুরু থেকে সুন্দর খেলা উপভোগ করছি। আশা করছি দ্বিতীয় ম্যাচ জিতবে প্রিয় দল।

চট্টগ্রামের ক্রীড়া সাংবাদিক নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, বেশ জমেছে এ টি-টোয়েন্টি সিরিজ। প্রতিটি ওভারে দর্শকদের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজে সব সময় উত্তেজনা থাকে। এবারে চট্টগ্রামের ম্যাচেও তাই দেখা যাচ্ছে। 

আবদুস সাত্তার/থিওটোনিয়াস

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে ২ শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে হামে ৭৬ জন শিশুর মৃত্যু হলো। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ জন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উজ্জ্বল মিয়ার ৫ মাস বয়সী ছেলে আহিয়ান মারা যায়। অপরদিকে, সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার পূর্ব সুলতানপুর গ্রামের সজল মিয়ার ৭ মাস বয়সী ছেলে সায়হান মারা যায়।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে নতুন করে আরও ২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে নতুন ভর্তি হয়েছে ৬৯ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত মোট ৩২৭ জনের পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ২৬ জন (২ জন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৮ জন এবং সিলেট জেলায় ১০৭ জন।

বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ২৬১ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ জন ভর্তি আছেন ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, ৬৬ জন শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ও ৩৫ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তামান্না রুপা/