চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যটন এলাকাগুলোতে ঈদের দীর্ঘ ছুটি ঘিরে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। ঈদুল ফিরতের আনন্দ উপভোগ করতে অনেকেই আসছেন সাতকানিয়া দিয়ে প্রবাহিত সাঙ্গু নদী নৌকা ভ্রমণ করতে। পাহাড় ও নদীর অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এখানে।
তবে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও কিছু জায়গায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (২২ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে অনেক নৌকায় পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট না থাকা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনাও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ঈদের দিন থেকেই সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন ঘাটে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ডিঙি নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত বোট ভ্রমণ। নদীর স্বচ্ছ পানি, চারপাশের সবুজ খেত আর শীতল বাতাস পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এক্ষেত্রে প্রতিবার নৌকা ভ্রমণের জন্য ইঞ্জিনচালিত বোটের চালকরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ডিঙি নৌকার মাঝিরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।
ডিঙি নৌকার মাঝি সমীরণ জলদাস খবরের কাগজকে বলেন, সাধারণত আমরা সাঙ্গু নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু প্রতিবছর ঈদের মৌসুমে মাছ শিকারের পরিবর্তে দর্শনার্থীদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ করিয়ে উপার্জন করি। ফলে ঈদের দিন থেকে আমাদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। অনেক ক্ষেত্রে পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত নৌকাও নামাতে হচ্ছে।
পরিবার-পরিজন নিয়ে সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণের জন্য এসেছেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইউনুস। তিনি বলেন, শহরের কোলাহল থেকে দূরে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানো আমাদের জন্য অন্য এক অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে শিশুদের জন্য। আমরা নদীতে নৌকা ভ্রমণের পাশাপাশি চরের সবজি খেত ও নদীর দুই পাড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামও ঘুরে দেখেছি।
শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সাঙ্গু নদীকে ঘিরে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এখানে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী খবরের কাগজকে বলেন, সাঙ্গু নদীতে নৌকা ভ্রমণের ক্ষেত্রে বোটচালক এবং নৌকার মাঝিদের অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করাসহ সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি নৌকা ঘাটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অমিয়/