সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও পিয়ন (অফিস সহায়ক) আয়াত উদ্দিনের মধ্যে অফিসের ভেতরে দরজা লাগিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পিয়নকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সিলেট জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার মো. জাহিন শাকিল ভূঞা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কিত তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। অফিস পিয়ন মো. আয়াত উদ্দিন দেরিতে অফিসে আসাকে কেন্দ্র করে তার নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে অফিস সহকারী আয়াত উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তহশিলদারের রুমের দরজা বন্ধ করে দুজন একে অপরের কলার ধরে কিল-ঘুষি মারছেন। বাইরে থাকা সেবাগ্রহীতারা দরজা খোলার জন্য আহ্বান জানান। পরে দরজা খুললে এক যুবক ভেতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অফিস সহায়ককে বাইরে বের করে দেন।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, আবার কেউ অভিযোগ করেছেন অফিসটিতে সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়।
এ বিষয়ে তহশিলদার দেলোয়ার হোসেন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে অফিস পিয়ন আয়াত উদ্দিন দাবি করেন, হাজিরা খাতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তহশিলদার তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ ও শারীরিক হামলা করেছেন।
রিফাত/