নোয়াখালীর হাতিয়ার ৪ নং স্টিমারঘাট সেতু এখন এক আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই সেতু পার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। সেতুর দুরবস্থার কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২৮ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে সেতুর দুই পাশে গ্রাম পুলিশরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১৪৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটিতে ৪২টি পিলার রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি পিলারে ফাটল ধরেছে। অনেক স্থানে কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে, যা সেতুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ট্রাকচালক জসিম উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, সেতুতে উঠলেই পুরো কাঠামো কাঁপতে থাকে। এতে ভয় কাজ করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে এই সেতু ব্যবহার করছি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন খুব কম চলাচল করতো। তবে গত ৩১ জানুয়ারি চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর ফলে অল্প সময়েই সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুর দুই পাশে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কেউ তা মানছে না। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ টন, এমনকি তারও বেশি ওজনের যানবাহন নির্বিঘ্নে সেতুটি পার হচ্ছে।
বাসচালক সেকান্তর হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ টন ওজনের ট্রাকও এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছি।
ওছখালী এলাকার যাত্রী রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজ বলেন, ফেরি চালু হওয়ায় যাতায়াত সহজ হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেতু পার হওয়ার সময় সবাইকে ভয়ে থাকতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, ভারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। পাশাপাশি নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
হানিফ উদ্দিন/নাঈম