ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অর্থনীতি ধ্বংসের বোমা: ফরিদা আখতার প্রায় ৫ বছর মেয়াদোত্তীর্ণ ইবি ছাত্রদল কমিটি পবিত্র আশুরা ২৬ জুন দুই বছরেও চালু হয়নি খুবির বধ্যভূমি জাদুঘর, তালাবদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী ১৭ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল মেসির জোড়া গোলে এগিয়ে আর্জেন্টিনা শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ সময়ের দাবি ১৭ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল উজবেকিস্তান-কলম্বিয়া: স্বপ্ন বনাম প্রত্যাবর্তন কর্মসংস্থানের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন জ্যোতিদের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়া এবার কত দূর যাবে পর্তুগাল? ঘানা-পানামা: বাঁচা-মরার শুরু ১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে আছেন যারা হালান্ডের জোড়া গোল, বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা নরওয়ের শেষ সুযোগ মদ্রিচের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ স্মরণীয় করতে চান ইমন হালান্ডের জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নরওয়ে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচের আগে ডি মারিয়ার হৃদয়ছোঁয়া বার্তা ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়ে যা বললেন ফিফা সভাপতি সোনালি ট্রফির খোঁজে কেইন ফ্রান্সের জার্সিতে ইতিহাস গড়লেন এমবাপ্পে এমবাপ্পের জোড়া গোলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্সের অস্ট্রিয়া-জর্ডান: ফিরে আসার লড়াই বিশ্বকাপে অনন্য নজির গড়লেন দেশম সুযোগ হাতছাড়া, ফ্রান্সের বিপক্ষে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সেনেগাল বিশ্বকাপে কত টাকা আয় করেন রেফারিরা? আলজেরিয়ার বিপক্ষে নামলেই ইতিহাস গড়বেন মেসি
Nagad desktop

গোপালগঞ্জে বিতরণ হয়নি ফুয়েল কার্ড, ২১টি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
গোপালগঞ্জে বিতরণ হয়নি ফুয়েল কার্ড, ২১টি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ
ছবি: খবরের কাগজ

সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গোপালগঞ্জে কৃষকদের মাঝে ‘ফুয়েল কার্ড’ বিতরণ করা হয়নি। নীতিগত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গোপালগঞ্জে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়নি। সেচ মৌসুমে ভর্তুকি মূল্যে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও, প্রান্তিক কৃষকরা এখনো তা হাতে পাননি।

এদিকে, গোপালগঞ্জের ২১টি ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব ট্যাগ অফিসাররা তেলের মজুদ ও বিতরণে দেখভাল করবেন।
 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নীতিগত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এখন পযর্ন্ত গোপালগঞ্জে কোনো ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এতে ফুয়েল কার্ডের আওতার বাইরে রয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা। 
 
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলার ২১টি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে সদরে ৯টি, মুকসুদপুর উপজেলার ৫টি ও কাশিয়ানী উপজেলার ৫টি এবং কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ১টি করে ফিলিং স্টেশন করেছে। জ্বালানি সরবরাহ ও জবাবদিহি নিশ্চিতে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
 
ওইসব ট্যাগ অফিসাররা হচ্ছেন পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিএডিসি, কৃষি, পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা, খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের ২১ জন কর্মকর্তা এ দায়িত্ব পালন করবেন।
 
গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিরুদ্ধ দেব রায় জানান, প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক মজুদ রেকর্ডভুক্ত, ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানিত তেল সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিমাণ করে গ্রহণ, পে অর্ডার ডিপোর চালান রিসিটের সঙ্গে সরবরাহ করা তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখার পাশাপাশি ডিপো-রড বা ডিপো-স্টিলের মাধ্যমে বাস্তব মজুত যাচাই করাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া তেল বিক্রিতে বিভিন্ন সময় অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে জেল জরিমানা করা হচ্ছে।
 
তিনি আরও বলেন, এখন পযর্ন্ত জেলায় কোনো ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়নি। মিটিংয়ে এ বিষয়ে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ফুয়েল কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। 
 
বাদল/মাহফুজ
 

জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
জিআই স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড়
ছবি: খবরের কাগজ

অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারি গুড়’। কয়েকশত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী এই খেজুরের গুড়কে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দিয়েছে সরকার। এর ফলে দেশের অন্যতম সুপরিচিত এ খাদ্যপণ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা লাভ করলো।

সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের (ডিপিডিটি) ভৌগোলিক নির্দেশক ইউনিট ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’-এর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। সনদ অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জের নামে এ নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়কে জিআই নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সনদ প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানিকগঞ্জের বিশেষ জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং স্থানীয় গাছিদের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদন পদ্ধতির কারণে হাজারি গুড় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এর অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এ গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিশেষ করে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার উৎপাদিত হাজারি গুড় সারা দেশে পরিচিত। শীত মৌসুমে এসব এলাকার প্রায় ২০ থেকে ৩০টি পরিবার হাজারি গুড় উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও এ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুর গাছ থেকে প্রথম কাটার যে রস সংগ্রহ করা হয়, সেই উৎকৃষ্ট মানের রস দিয়েই তৈরি করা হয় হাজারি গুড়। আগের দিন গাছে হাঁড়ি বেঁধে রাখা হয়। ভোরে সংগ্রহ করা রস দীর্ঘ সময় ধরে জ্বাল দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়। এক কেজি হাজারি গুড় তৈরিতে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা রস।

অসাধারণ স্বাদ ও সুগন্ধের কারণে বাজারে হাজারি গুড়ের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি হাজারি গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। চলতি মৌসুমে ঝিটকা ও গোপীনাথপুর গ্রামের ২৮টি গাছি পরিবার প্রায় কোটি টাকার গুড় বিক্রির আশা করছে।

স্থানীয়দের দাবি, মানিকগঞ্জের হাজারি গুড় শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও একসময় এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন। সেই খ্যাতিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার বাজার।

জিআই স্বীকৃতির ফলে হাজারি গুড়ের বাজারমূল্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি নকল পণ্যের বিস্তার রোধ, ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্ভাবনা সম্প্রসারণেও এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘জিআই সনদ পাওয়ার মাধ্যমে মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এই পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হলো। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ স্বীকৃতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি।’

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই হলো এমন একটি স্বীকৃতি, যা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের ভৌগোলিক পরিচয়, সুনাম ও স্বত্ব সংরক্ষণ করে। ‘মানিকগঞ্জের হাজারি গুড়’ জিআই সনদ পাওয়ার মধ্য দিয়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য নতুন মর্যাদা অর্জন করলো এবং বিশ্ববাজারে পরিচিতি বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো।

আসাদ জামান/এসএন

‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
‘দারুণ মজা!’—কালাই রুটির প্রেমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাবার কালাই রুটির স্বাদে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। খাবারটি খাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'দারুণ মজা!'

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর উপশহর নিউ মার্কেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘রুমন কালাই হাউজ’ পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি রাজশাহীর বিখ্যাত কালাই রুটির পাশাপাশি বেগুন ভর্তা ও রাজহাঁসের মাংসের স্বাদ গ্রহণ করেন।

খাবার উপভোগের আগে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কালাই রুটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়া আগ্রহভরে পর্যবেক্ষণ করেন। দোকানের কর্মীরা কীভাবে রুটি প্রস্তুত করছেন, তা মনোযোগ দিয়ে দেখেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি সেলফিও তোলেন। শুধু কালাই রুটি নয়, বেগুন ভর্তা তৈরি ও রাজহাঁসের মাংস রান্নার প্রক্রিয়াও ঘুরে ঘুরে দেখেন তিনি।

পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কালাই রুটি ও রাজহাঁসের মাংস খেতে বসেন রাষ্ট্রদূত। খাবার শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, কালাই রুটি, হাঁসের মাংস ও বেগুন ভর্তার স্বাদ ছিল চমৎকার। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ‘রুমন কালাই হাউজে’ স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই একনজর তাঁকে দেখতে এবং তাঁর খাবার উপভোগের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পুরো এলাকা ছিল উৎসুক জনতার পদচারণায় মুখর।

সফরকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর সফরসঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এনায়েত করিম/এসএন

বেদে পল্লীতে এসি লাগিয়ে মাদক কারবার, গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
বেদে পল্লীতে এসি লাগিয়ে মাদক কারবার, গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর চাটখিলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়ে মাদক কারবারের অভিযোগে সরকারি জায়গায় নির্মিত বেদে পল্লীর কয়েকটি ঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে ওই অভিযান চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেদে পল্লীর সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে বিলাসবহুল আস্তানা বানিয়ে মাদকের পাশাপাশি পতিতাবৃত্তির বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এতে সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে রবিবার (১৪ জুন) ওই আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় এসির রিমোট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ কর হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাত মাদক মামলার আসামি ও আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মেয়ে ও ভাগ্নিকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ববিতা ও তার সিন্ডিকেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে অপরাধের আখড়া তৈরি করেছিল। বর্তমানে ওই জায়গার ওপর দিয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ চারলেন রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পাশাপাশি চলমান সড়ক সম্প্রসারণের জন্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন বুলডোজার দিয়ে পুরো আস্তানাটি ভেঙে দিয়েছে।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চারলেন রাস্তার উন্নয়ন কাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সব ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত করতে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

অভিযানে নোয়াখালী জেলা সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলামসহ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ, চাটখিল থানার উপপরিদর্শক শাহজাহানসহ পুলিশের একটি টিম, উপজেলা প্রশাসন ও চাটখিল পৌরসভার কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আনসার বাহিনী এই অভিযানে সহায়তা করেন। 

এদিকে প্রশাসন ও পুলিশের এমন দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয়দের মাঝে। এলাকাবাসী এই মাদক ও পতিতাবৃত্তি সিন্ডিকেটের মূল হোতা ববিতাসহ এর নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইকবাল হোসেন মজনু/এসএন

প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, যুবক আটক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান, যুবক আটক
স্লোগান দেওয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার সোহেল রানা। ছবি: খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে 'জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দেওয়ার অপরাধে সোহেল রানা (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সোহেল উপজেলার মতিগঞ্জ এলাকার মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল (১৭ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও সমাবেশে যোগ দিতে শ্রীমঙ্গলে আসবেন। সেই লক্ষ্যে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নানান কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখানে নিমির্তব্য মঞ্চের সামনের মাঠে হঠাৎ এক যুবক একাধিকবার জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অসংলগ্ন আচরণও করতে থাকেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন বলেন, “ছেলেটি সম্ভবত নেশাগ্রস্ত ছিল। সে মঞ্চের পাশের মিনি স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিচ্ছিল। পরে সেখানে থাকা লোকজন তাকে মারধর করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে সে থানায় রয়েছে।”

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক খবরের কাগজকে জানান, আমি মাত্র থানায় ঢুকেছি৷ শুনেছি একজনকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল বুধবার শ্রীমঙ্গলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শুভ/নাঈম

চট্টগ্রামকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করা হবে: ডা. শাহাদাত

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
চট্টগ্রামকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করা হবে: ডা. শাহাদাত
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরীকে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, খাল খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য
চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে। 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নগরীর রসুলবাগ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

বর্ষা মৌসুমের আগে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে চসিকের বিশেষ খাল খনন অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। মেয়রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একই দিনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খালের খনন ও ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

মেয়র জানান, সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি চসিক নিজ উদ্যোগে ৩৭ থেকে ৪০টি খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রথম ধাপে গোলজার খালসহ চারটি খালের খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদের নাসির খাল এবং ৩৭ নম্বর হালিশহর বন্দর এলাকার বড় খাল পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি খাল
সম্পূর্ণ পরিষ্কারে ১৫ দিন থেকে এক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি খালের খনন কার্যক্রম শুরুর আগে ও শেষ হওয়ার পর ছবি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মেয়র।

পরিদর্শনকালে মেয়র অভিযোগ করেন, একটি নির্মাণাধীন সুইস গেটের কারণে খালের মুখ সংকুচিত হয়ে পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও চসিক বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বর্জ্য রাস্তাঘাট ও নালায় থেকে যাচ্ছে, যা জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, “শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নগরী পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। নালা-নর্দমায় ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অনেক নাগরিক সামান্য ফি প্রদানে অনাগ্রহী হওয়ায় চসিক বিনামূল্যে এ সেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে যত্রতত্র ময়লা ফেলা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার এবং ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নগর উন্নয়নের অর্থায়ন প্রসঙ্গে মেয়র জানান, বর্তমানে চসিকের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বকেয়া ২৬৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ রেলওয়ের আনুমানিক বকেয়া ১৬ থেকে ১৮ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কন্টেইনার ডিপোর বকেয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “বিগত কয়েক বছরের কাজের ফলে নগরীর প্রায় ৭০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমেছে। অবশিষ্ট সমস্যা সমাধানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া একটি পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়া সম্ভব নয়।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

নাঈম/