সিলেটে প্রতিদিন বাড়ছে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা। হামের সংক্রমণের কারণে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। গত সোমবার হামে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৪ মাস বয়সী এক শিশুর, তাই নবজাতক ও এক বছরের কম বয়সী শিশুর অভিভাবকদের মধ্যে হাম আতঙ্ক বেশি ছড়িয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব কনফার্ম কোনো হাম রোগী নেই।
এদিকে, হামে সিলেটে একজনের মৃত্যুর পর সিলেটের বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে সর্তকতা জারি করা হয়েছে। সোমবার সিলেট সরকারি কিন্ডারগার্টেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন স্কুলে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, হামের প্রকোপ বেশ বেড়ে গেছে। এমতাবস্থায়, আপনার শিশুকে বাড়তি যত্নসহ নিম্নোক্ত নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করছি। শিশুকে অপ্রয়োজনে বাইরে বের করবেন না। জ্বর, সর্দি, কাশি অথবা শরীরে কোনো র্যাশ উঠলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে স্কুলে পাঠাবেন না। পরিপূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বাসায় রাখুন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ে শুধু জানালেই হবে।’
অপরদিকে, হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত সোমবার থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১০ শয্যার আলাদা আইসোলেশন চালু করা হয়েছে। এর আগে গত ২৬ মার্চ হাম রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে একটি আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়।
তবে সিলেট বিভাগ বা বিভাগের কোনো জেলায় হাম আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রোগ নির্ণয়ে নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রিপোর্ট আসতে প্রায় ১ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই অনেক সময় দেখা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর হাসপাতালে পরীক্ষার ফলাফল এসেছে।
তবে এজন্য হাম রোগীদের চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ঢাকা ছাড়া সারাদেশের কোনো জেলা বা বিভাগে হাম আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা পাঠাই। সাধারণত পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে ১ সাপ্তাহ সময় লাগে। তবে যেহেতু এখন হামের প্রাদুর্ভাব বেশি, তাই আমরা তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রিপোর্ট আনছি। তবে ল্যাব বা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলেও রোগীদের সেবা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। কারণ আমরা সন্দেহজনক রোগী আসলেই চিকিৎসা শুরু করে দেই। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে ল্যাবের ব্যবস্থা থাকলে ভাল হতো।
১ জানুয়ারি থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ল্যাব কনফার্ম রোগী আছে ৩৭ জন। এরমধ্যে হবিগঞ্জ জেলায় ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে ২ জন রুবেলা। মৌলভীবাজার ১০ জন, সুনামগঞ্জ ১১ জন ও সিলেটে ১০ জন হাম রোগী ল্যাব কনফার্ম হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় বিভাগে হাম সন্দেহজনক নতুন ভর্তি হয়েছে ৩৩ জন। এরমধ্যে ২০ জন শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ২ জন দোয়ারা বাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১ জন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৩ জন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, ২ জন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও ৫ জন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এ ব্যাপারে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, অন্য এলাকার তুলনায় সিলেটে হামের প্রকোপ কম থাকলেও প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত সোমবার হাম আক্রান্ত অবস্থায় এক শিশু মারা গিয়েছে। তবে আমরা আগেই বলেছিলাম দুজন হামে আক্রান্ত শিশু আছে যাদের অবস্থা গুরুতর। তাদের একজন হৃদরোগে ও একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত। যে শিশুটি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিল সে সোমবার মারা গিয়েছে।
নাঈম/