চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বলী (কুস্তি) খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই খেলায় খুদে বলী, সাধারণ বলী ও বিভিন্ন সময়ের সেরা পাহাড়ি বলীরা (কুস্তিগির) অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস প্রধান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
গতকাল শনিবার বিকেলে বিজু উৎসবের তৃতীয় দিনে বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়। চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে বিজু, সাংগ্রাইং, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান, পাতা উদযাপনে চার দিনের কর্মসূচি পালন করছে উৎসব উদযাপন কমিটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেএসএস-এর সহসভাপতি ও সাবেক এমপি ঊষাতন তালুকদার, উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সদস্যসচিব ইন্টুমনি তালুকদারসহ অন্যরা।
উৎসবে অংশ নেওয়া নানা বয়সী পাহাড়ি দর্শকরা এ সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মুহুর্মুহু উল্লাসে ফেটে পড়েন। খুশির এ উন্মাদনা যেন ক্ষণিকের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছে ব্যস্ত জীবনের নানা জঞ্জাল! বলীখেলায় এবার চ্যাম্পিয়ন হন রাঙামাটির দীপু তালুকদার। রানার্সআপ হন হ্যাটট্রিক করা খাগড়াছড়ির সৃজন চাকমা। আর তৃতীয় হয়েছেন নানিয়ারচরের সুমন চাকমা।
এর আগে আয়োজন নিয়ে সাবেক এমপি ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখা। চর্চা না থাকলে এগুলো হারিয়ে যায়। গতকাল (শুক্রবার) ঘিলা, নাডেংসহ অন্য খেলাগুলো হয়ে গেছে। আজকে বলীখেলা হলো। বলীখেলা আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। এটাকেও আমরা ধরে রাখতে চাচ্ছি। যদি নিয়মিত আয়োজন করা না হয় তাহলে বলী উঠে আসবে না। এটার একটা ক্ষেত্র থাকতে হবে। তাই এই প্রচেষ্টা।’
এরপরে রাতে মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীরা নিজেদের পোশাক ও অলংকারে সজ্জিত হয়ে বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরেন।
চার দিনব্যাপী বর্ণিল এই উৎসবের চতুর্থ দিনে রবিবার ভোরে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চৈত্রসংক্রান্তির মূল আনুষ্ঠানিকতা ‘ফুল বিজু’ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বর্ষকে বরণ করা হবে।
গত ৯ এপ্রিল সকালে উৎসব উদযাপন কমিটি রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে চার দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন করে। আগামী ১৭ এপ্রিল রাঙামাটির মারী স্টেডিয়ামে মারমা সম্প্রদায়ের জল উৎসবের মধ্য দিয়ে এবারের এ বর্ণিল আয়োজনের সমাপ্তি হবে।