ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ
Nagad desktop

নববর্ষে কুমিল্লায় মাছের মেলা

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
নববর্ষে কুমিল্লায় মাছের মেলা
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লায় নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে দুই দিনব্যাপী বিশাল মাছের মেলা বসেছে নগরের রাজগঞ্জ বাজারে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সরগরম উপস্থিতিতে বিশাল এ মাছের মেলা রাজগঞ্জ বাজার ছাড়িয়ে দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে দীর্ঘ সারিতে পরিণত হয়েছে।

পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) এবং তার পরদিন (১৫ এপ্রিল) রাজগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে শুধু মাছ আর মাছ। মূল বাজার ছাড়িয়ে সড়কের দুই ধারে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসেছে মাছের মেলা। একদিকে রাজগঞ্জ ট্রাফিক মোড়, অন্যদিকে নগরের মোগলটুলি এলাকার কুমিল্লা হাইস্কুলের ফটক পর্যন্ত। মেলাজুড়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়, হাঁকডাক। তবে বড় আকারের মাছেই ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

কুমিল্লা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে মাছ নিয়ে এসেছেন শৌখিন বিক্রেতারা। চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ এসেছে।

রুই, কাতলা, বোয়াল, চিতল, মহাশোল, আইড়, গজার, কার্পসহ নানা প্রজাতির বড় বড় মাছের দেখা মিলছে এ মেলায়। এছাড়া দেশীয় প্রজাতির কই, টেংরা, পুঁটি, মলা, শিং, বাইমসহ ছোট মাছেরও পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

দুই দিনব্যাপী এ মেলা কুমিল্লাবাসীর নববর্ষের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে এ মেলা থেকে মাছ কিনে নিয়ে যান।

ক্রেতারা বলেন, প্রতিবছরই এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকেন তারা। নতুন বছরের প্রথম দিনে মেলা থেকে মাছ কিনে নিয়ে যাওয়ার আনন্দই আলাদা। দরদামের হেরফের নয়, বরং মেলা থেকে পছন্দের মাছ কিনতে পারার আনন্দটাকেই বড় করে দেখছেন তারা।

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মেলার ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে প্রতিবছরই নির্দিষ্ট এই দুটি দিনের জন্য আলাদা প্রস্তুতি থাকে তাদের। সে প্রস্তুতির কারণে এবারও পুরো মেলাজুড়ে বড় বড় মাছের দেখা মিলছে। পহেলা বৈশাখ শুরু হওয়ায় মেলা চলে বছরের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত।

কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে আসা বিক্রেতা আবদুল কাইয়ুম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মাছ কম এসেছে। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি আগের মতোই মনে হচ্ছে। তার দাবি, ক্রেতা বেশি থাকলেও মাছের দাম বাড়েনি।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক-পিকআপে করে বড় বড় মাছগুলো নিয়ে আসা হয়েছে। একটু একটু পরপর সেখান থেকে মাছ নামিয়ে এনে ডালায় সাজিয়ে রাখছেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও পানির মধ্যে জীবিত মাছ রেখে বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও ডালার মধ্যে মাছ লাফালাফি করছে।

মেলায় ১০ কেজির বেশি ওজনের মাছগুলো ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সর্বনিম্ন আড়াই থেকে ৩ কেজি ওজনের রুই/কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। আকারভেদে ক্রেতারা দরদাম নির্ধারণ করছেন।

ব্রাহ্মণপাড়ার সাহেবাবাদ এলাকা থেকে মাছ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, এ বছর গতবারের মতো বেশি বড় মাছ আনতে পারিনি। আমার কাছে সবচেয়ে বড় যে কাতলা মাছটি ছিল, তার ওজন ১৪ কেজি ৩০০ গ্রাম। এটি ১৪ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। ১০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা হোসনেয়া বেগম বলেন, প্রতি বছরই আমরা রাজগঞ্জ বাজারের এই মাছের মেলার জন্য অপেক্ষা করি। বছরের প্রথম দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এখান থেকে মাছ কেনার আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কোরবানির ঈদের গরু কেনার যেমন আনন্দ, বছর শুরুর দিনে এখান থেকে মাছ কেনারও সেরকম আনন্দ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই মাছের মেলা কুমিল্লার ঐতিহ্যের অংশ। ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল, নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। ধারণা করা হয়, মেলার বয়স শত বছরের বেশি। একসময় শুধু কাতলা মাছ উঠত, এখন অন্যান্য মাছও আসে।

শান্ত/রিফাত/

সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের  মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মেঘনা ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকেলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দুজন হলো: ঢাকার কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫) এবং দনিয়া এলাকার ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে কায়েস ভূঁইয়া (১৩)। মেরাজ রাজধানীর বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির এবং কায়েস একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত বন্ধু মিলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বুধবার দুপুরে সোনারগাঁয়ে ঘুরতে আসে। পরে তারা মেঘনা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে মেরাজ ও কায়েস তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা অন্য বন্ধুরা তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেলে প্রথমে মেরাজের এবং পরে কায়েসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের স্বজনেরা জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা বন্ধুদের সঙ্গে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসেছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা জানতে পারেন, দুই শিক্ষার্থী নদীতে ডুবে গেছে। তাদের দাবি, নিহতদের কেউই সাঁতার জানত না।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২-এর উপপরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মেঘনা ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকেলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন ঢাকার কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে মেরাজ হোসেন (১৫) এবং দনিয়া এলাকার ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে কায়েস ভূঁইয়া (১৩)। মেরাজ রাজধানীর বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির এবং কায়েস একে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

জানা যায় সাত বন্ধু মিলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বুধবার দুপুরে সোনারগাঁয়ে ঘুরতে যায় তারা। পরে মেঘনা নদীতে গোসল  করতে নামে তারা। নদীর প্রবল স্রোতে মেরাজ ও কায়েস তলিয়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা চেষ্টা করলেও তাদের উদ্বার করা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিকেলে প্রথমে মেরাজের এবং পরে কায়েসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতদের স্বজনেরা জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তারা বন্ধুদের সঙ্গে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা জানতে পারেন, দুই শিক্ষার্থী নদীতে ডুবে গেছে। তাদের দাবি, নিহতদের কেউই সাঁতার জানত না।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২-এর উপপরিচালক মো. ওসমান গনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইমরান/আমান

গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সাজাপ্রাপ্ত বৃদ্ধ আসামি জালাল উদ্দিন। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মধ্যপাড়া এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ মামলায় ৬৫ বছর বয়সী জালাল উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং শিশুটি তার প্রতিবেশী ছিল।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক তৈয়ব আলী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটি নিজ বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল। তখন প্রতিবেশী জালাল উদ্দিন শিশুটিকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। 

এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। পরে মামলাটি নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। 

রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের পিপি মুন্সি আবুল কালাম আজাদ জানান, রায় ঘোষণার পর আসামি জালাল উদ্দিনকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল/নাঈম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা। ছবি: খবরের কাগজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৬ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন আছে জেলা হাসপাতালে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৪২ নম্বর সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, দুপুরে ‘গাক’ নামক একটি এনজিওর পক্ষ থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম ও পাউরুটি বিতরণ করা হয়। তবে সরবরাহকৃত খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা ওই খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সালিম ডোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। তবে ভিন্ন কথা বলছেন খাবার বিতরণকারী ‘গাক’ এনজিওর কর্মকর্তা কবির উদ্দিন।

তিনি বলেন, আজকে ২১৩টি স্কুলে ৪১ হাজার ৭শ ৩৯টি ফিডিংয়ের খাবার (ডিম ও পাউরুটি) বিতরণ করা হয়েছে। তবে সকাল থেকে ওই স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল না। তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ৯ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। খাবার খেয়ে পেটব্যথা হয়েছিল, তার ওপর আবার আবহাওয়া খারাপ। বর্তমানে তাদের স্যালাইন দিয়ে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণে রাখছি।

আসাদুল্লাহ/আমান 

চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: খবরের কাগজ

মায়ানমার থেকে আসা কিছু রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ভাষাগত মিলের কারণে তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সহজে মিশে যাচ্ছে, যা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা একথা বলেন।

বুধবার (১৭ জুন) চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদেরকে কক্সবাজারের উখিয়া
এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এরকম রোগী বাইরে কতজন ঘুরাফেরা করছে তা আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

অপরদিকে, ২০২৫ সালে সারাদেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১৮৯১ জন। যার মধ্যে ২১৭ জন রোহিঙ্গা।

আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এ আর টি সেন্টারে ৩৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে পজিটিভ ৮১ জন, নেগেটিভ ৩৮৬১জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন মহিলা। যার মধ্যে ১৫ জন মারা যায়।

আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছর। এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হচ্ছে তার শরীরে এইডসের প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজেটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘর সংসার করতে পারেন। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছেন।

সন্তানদের শরীরে এইচআইভি’র জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার ফসল। এই ইতিবাচক দিকের একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে।অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করছেন। কারণ তারা জানে এইচআইভি আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একইসঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম।

দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনও কখনও অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

আমান/