নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন ওই এলাকার গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে। জরুরি সেবার অভাব ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে গাইনি বিভাগে কোনো স্থায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা সার্জন না থাকায় স্বাভাবিক ডেলিভারি থেকে শুরু করে জটিল প্রসূতি সেবা পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গাইনি চিকিৎসকের অভাবে অনেক সময় প্রসূতি রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে নোয়াখালী সদর হাসপাতাল, চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়। এতে নদীপথের দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় রোগীর জীবনহানির আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বেশিরভাগ পদই শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে গাইনি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিভাগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অনেক প্রসূতি নারী বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক বা দূরবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে বাড়তি খরচ ও সময় ব্যয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত গাইনি বিশেষজ্ঞসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেন, একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই শেষ ভরসা। তাই স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার খবরের কাগজকে বলেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় আমাদের নিয়মিত প্রসূতি সেবা দিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। স্বাভাবিক ডেলিভারি কিছুটা হলেও আমরা পরিচালনা করতে পারছি, তবে জটিল কোনো রোগী এলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে রেফার করতে হয়। তাই এখানে জরুরি ভিত্তিতে গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ অত্যন্ত প্রয়োজন।
হানিফ উদ্দিন/নাঈম