মাগুরায় মাদক, ইভটিজিং, দাঙ্গা ও সামাজিক সহিংসতা প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) মাগুরা সদর থানার আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. মিরাজুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) দীপংকর ঘোষ। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মো. আশিকুর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক, পৌর বিএনপির সভাপতি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার (এসপি) মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, আমি আমার ওপর অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করব, এতে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। এটি আমার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। মাগুরাবাসীকে ভালো রাখার জন্য আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব।
নেতৃবৃন্দের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আপনারা মাগুরার মালিক, এ দেশের মালিক। তবে আপনাদের ভালো রাখার জন্য সরকার আমাকে কিছু দায়িত্ব দিয়েছে, যা আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। তিনি নিজের পেশাগত সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকদের কাছে নাগরিক অসুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে, বেশিরভাগ বক্তাই মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি প্রতিরোধে পুলিশের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে পুলিশ সুপার জানান, মাদকের ক্ষেত্রে আমাদের বড় অর্জন রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি মামলা, ওয়ারেন্ট আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদক উদ্ধার হয়েছে। তিনি অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রো-অ্যাক্টিভ পুলিশিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মারামারি হওয়ার পর পুলিশ আসবে—এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাসী নই। অপরাধ ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এক ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যরা নিজেরা আহত হলেও সাধারণ মানুষকে রক্ষা করেছে।
তিনি পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল পুলিশ।
সভায় নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণের জন্য যেকোনো সুপরামর্শ আমরা গ্রহণ করব। তবে এমন কোনো অনুরোধ করবেন না যা সমাজের শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করে। তিনি জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
কাসেমুর রহমান/নাঈম