চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগের সামনের কাচ ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে অন্য শ্রমিকরা হাসপাতালে আসে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে প্রকল্পের ঠিকাদারের লোকজনের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের কাচ ভেঙে যায়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত তিনটার দিকে নগরের হালিশহর এক্সেস রোড এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
মারা যাওয়া দুই শ্রমিক হলেন রাকিব (২৫) ও তুষার (২২)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। অপরদিকে আহতরা হলেন- এরশাদ (২২) ও সাগর (২৬)।
জানা গেছে, হালিশহর এক্সেস রোড এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হাইড্রো কোম্পানি। পাইপলাইন স্থাপনের জন্য বুধবার রাতে সেখানে মাটি খননের কাজ করছিলেন চার শ্রমিক। এ সময় হঠাৎ করেই মাটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে কাজ করা চারজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে গুরুতর আহতাবস্থায় চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজন চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইফতেখারুল/অন্তরা