ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অথচ বাজেট বরাদ্দ তলানিতে: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত ঢাকায় শুরু হচ্ছে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করবে সরকার আরেকবার সাফের ফাইনালে ঋতুপর্ণার গোল দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩ এক টুকরো হৃদয়ের নাম বাংলাদেশ রামিসার  মামলার  দ্রুত রায় মা হচ্ছেন সোহিনী গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় নিহত পাঁচজন চামড়া নিয়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতির শেষ কোথায় লালমনিরহাটে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর রাতেই গ্রেপ্তার ১৫ বাংলাদেশ লোক গবেষণা পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.) এর পোশাক ও রূপ? ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু সাপ্তাহিক ২দিন ছুটিসহ নগদে চাকরির সুযোগ আরাকান আর্মির গুলিতে রোহিঙ্গা যুবক আহত জামালপুরে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন সন্তোষজনক জবাব না পেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের দুই পা বিচ্ছিন্ন How to learn English বিষয়ক Writing Paragraph, ৩০তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র জনস্বার্থে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন: বাংলাদেশ ন্যাপ তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
Nagad desktop

কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটালেন বিএনপি নেতা, আহত ৫

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
কলেজে ঢুকে শিক্ষিকাকে জুতা দিয়ে পেটালেন বিএনপি নেতা, আহত ৫
ছবি: খবরের কাগজ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে এসব ঘটনায় অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালে হামলা, ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।  

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কলেজে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। বিশেষ করে আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে
 কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তারা প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর জেরে ওই নারী শিক্ষক বিএনপি নেতা আকবর আলীকে থাপ্পড় মারেন। এতে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা আকবর ওই নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটাতে থাকেন। পরে চুলের মুঠি ধরেও মারধর করেন। কিছুক্ষণ পর বিএনপির অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান তিনি। এ সময় অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুরও করা হয়।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। তাদের কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার সময় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলী নারী প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকেরাও হামলার শিকার হন।

ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থী, দায়িত্বরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় কলেজ ত্যাগ করেন।

আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, আকবর আলী, আফাজ আলী, শাহাদ আলী, জয়নাল আলী, এজদার আলী, রুস্তম আলী ও জামিনুর ইসলাম জয়সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলায় অংশ নেন। তাদের দাবি, পূর্ব থেকেই কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চার মাস আগে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রায় কলেজে এসে হিসাব-নিকাশ চাইতেন। আসলে তারা চাঁদার দাবিতে আসতো। অধ্যক্ষ নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। বিধায় কোনো পক্ষকেই সেইভাবে গ্রহণ করতেন না। এটাই অপরাধ ছিলো অধ্যক্ষের। আর একজন শিক্ষক বা সহকর্মী হিসেবে অধ্যক্ষকের পাশে থাকাটাই আমার অপরাধ। আমি এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা হয়েও কেন অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়েছি এটাও আমার একটা অপরাধ। এই অপরাধে আমাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যা একজন শিক্ষক হিসেবে আমার জন্য চরম অপমানজনক।

তবে বিএনপি নেতা আকবর আলী বলেন, এই কলেজে দীর্ঘসময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে কলেজের জমি, গাছপালা বিক্রি সহ বিভিন্নক্ষাতে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন মোজাম্মেল হক। সেই সময়ের হিসাবের ফিরিস্তি বারবার চাইলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দেননি। উল্টো আমাদেরকে ভয় ভীতি দেখান। এমনকি ঘটনার দিনে কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের উপরে হামলা করে এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে চড়-থাপ্পড় মারেন। যার ফলশ্রুতিতে নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করেছে এবং অফিস কক্ষ অফিস ভাঙচুর করেছে।

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয় পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এনায়েত করিম/অন্তরা

অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
অধস্তনকে চড় মারায় সিলেটের এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে লঘু দণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

অধস্তন কর্মকর্তাকে চপেটাঘাত করার ঘটনায় সিলেটের মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নামে এক নির্বাচন কর্মকর্তাকে তিরস্কার ও এক বছরের জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিতের শাস্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিলেটের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন কর্মকর্তা ছিলেন।

শনিবার (৬ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসির সচিব আখতার আহমেদের সই করা এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে গত ২০ জানুয়ারি অফিসের টোনার ক্রয়ের বকেয়া বিল পরিশোধকে কেন্দ্র করে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে’র সঙ্গে নজরুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি পার্থ প্রতীম দেকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ক্রোধান্বিত হয়ে তাকে চড় মারেন। এছাড়া তাদের মধ্যে মতবিরোধ, স্বার্থের সংঘাত, অসম আচরণ, সমন্বয়হীনতা এবং অকর্মকর্তাসুলভ আচরণের বিষয়ও তদন্তে উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তার কর্মকাণ্ড দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ২১ মে তাকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। তবে অভিযোগনামা, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন, লিখিত জবাব এবং শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন অভিযোগের সত্যতা পায়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম একজন সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন এবং অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার এ আচরণ স্পষ্টতই ‘অসদাচরণ’ এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(২)(ক) অনুযায়ী তাকে ‘তিরস্কার’ এবং বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী পরবর্তী এক বছরের জন্য ‘বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘু দণ্ড প্রদান করেছে নির্বাচন কমিশন।

এলিস/রিফাত/

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
বাসচালক ঝন্টু আলী। ছবি: খবরের কাগজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে ফেরির দিকে হাঁটতে থাকেন।

এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে নির্ধারিত ফেরির পরিবর্তে পাশের ‘করবী-অক্সফ্যাম’ ফেরিতে তুলে ফেলেন। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র‍্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র‍্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে চালককে নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এতে ফেরির র‍্যাম্প, ক্যাবল ও যাত্রীদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান/রিফাত/

শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
শরীয়তপুরে মাটির নিচ থেকে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য
মাটির নিচ থেকে ধোঁয়া উঠছে। ছবি: খবরের কাগজ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে অন্তত ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জায়গাটিতে মাটি খোঁড়া হলে সেখান থেকে ধোঁয়া ওঠা শুরু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি অংশে মাটি স্পর্শ করলেই তীব্র তাপ অনুভূত হয়। পরবর্তীতে তাপমাত্রা না কমলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তারা প্রাথমিকভাবে তারা ওই এলাকায় মাটির নিচে গর্ত করে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে এখন পর্যন্ত তাপের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ঘটনাস্থলের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, প্রথমে বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে বিদ্যুতের কোনো ত্রুটি বা লিকেজের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এবিএম বাসার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করেছি। উত্তপ্ত স্থানে বারবার পানি দিয়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মাটির নিচ থেকে তাপ অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে তাপের উৎস সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, রহস্যজনক এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

বিধান/নাঈম

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জন গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে কাফনের কাপড় পড়ে মিছিলকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ডবলমুরিং থানা পুলিশ। অভিযানে দুইটি যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (এসি) (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

তিনি বলেন, গত ৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে বন্দর থানাধীন বারেক বিল্ডিং এলাকার ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে একটি মিছিলের তথ্য পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যাত্রীবাহী বাসে করে এসে মাথায় সাদা কাপড় বেঁধে সমবেত হয় এবং মিছিল শুরু করে।

পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাস, ১০টি লাঠি, ৪টি সাদা কাপড়ের টুকরা এবং ১৩টি ইটের টুকরা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগে মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান এসি আমিনুর রশিদ।

পুলিশ জানায়, মিছিলে অংশ গ্রহণকারী, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডসহ রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।

প্রেপ্তাররা হলেন, হালিশহর থানা যুবলীগের সভাপতি মো. ওমর ফারুক(৪৪)। যুবলীগ নেতা সাকিবুল ইসলাম(২২), ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমদ রেজাসহ (৩২) যিশু দাশ(৪৫), মো. সাইফুল আলম রুবেল (৪১), মো. শরিফুল ইসলাম(২৩), মো. ইব্রাহিম খলিল(৩৩), মোহাম্মদ মিন্টু (৪৫), জোবায়ের আহমেদ নীরব (২৫), মো. মনিরুল ইসলাম (৪৩), মো. হান্নান (৪৩), মো. জুনাইদুল আলম তাসনুপ (২৩) ও কর্ণফুলি থানা যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ও ইউপি মেম্বার পদপ্রার্থী মো. ইরফান (৩২)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নাঈম/

দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
দৌলতদিয়ায় বাস নদীতে পড়ার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক ঝন্টু আলী (৪৮), সুপারভাইজার আজমল হোসেন (৩৮) ও হেলপার শাকিব হোসেনকে (২২) আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন নৌপুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা নেমে ফেরির দিকে হাঁটতে থাকেন।

এরপর চালক ঝন্টু আলী বাসটি বেপরোয়াভাবে চালিয়ে নির্ধারিত ফেরির পরিবর্তে পাশের ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে তুলে ফেলেন। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র্যাম্পের শিকল ও সিটকিনি ছিঁড়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

ঘটনার সময় সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। পরে চালককে নদী থেকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর নদী থেকে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এতে ফেরির র্যাম্প, ক্যাবল ও যাত্রীদের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবমিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তিন আসামিকে শনিবার রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

মেহেদী হাসান/এসএন