তীব্র গরমের পর স্বস্তি নিয়ে আসা বৃষ্টি বরিশাল নগরবাসীর জন্য আবারও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। টানা এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। এতে নগরীর প্রধান সড়কসহ নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে সদর রোড, বগুড়া রোড, নথুল্লাবাদ ও বাজার এলাকার বিভিন্ন সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
পানিতে ডুবে যায় দোকানপাট ও বাসাবাড়ির নিচতলা। এতে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই পানি ঠেলে চলাচল করতে বাধ্য হন। এতে নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চমান পর্যবেক্ষক মো. আনিচুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত এক ঘণ্টায় ৩৫ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বটতলা চৌমাথা, বগুড়া রোড, ভাটিখানা, আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন সড়ক ও শাখা সড়কে হাঁটুপানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রসুলপুর, পলাশপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বৃষ্টি ও নদীর পানিতে অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সীমান্ত শিকদার বলেন, “বৃষ্টি আর জোয়ারের পানি ঘরে ঢুকে পড়েছে। ২৫–৩০ বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”
ভাটিখানা এলাকার জহিরুল ইসলাম বলেন, “অল্প বৃষ্টিতেই ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেশির ভাগ এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। ড্রেনেজব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়ায় কয়েক বছর ধরে এ অবস্থা চলছে।”
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক হানিফ হাওলাদার বলেন, “রাস্তায় পানি জমলে ব্যাটারি ও মোটরে পানি ঢুকে রিকশা বিকল হয়ে যায়।”
বটতলা এলাকার বাসিন্দা এস এম শাহজাদা বলেন, “বৃষ্টি হলেই বটতলা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক সময় পানি নামতে ৭–১০ দিন লেগে যায়।”
সদর রোডের ব্যবসায়ী পিনকু বলেন, “অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে।”
পরিকল্পিত নগরায়নের অভাব ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি কথা স্বীকার করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে
নগরের খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি অপসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অল্প বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র দুই মাস হলো। দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো নগরী ঘুরে দেখেছি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। নগরের বিশিষ্টজনদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেছি। তাদের কাছ থেকে সমস্যাগুলো জেনেছি এবং সমাধানের জন্য পরামর্শ নিয়েছি। সে অনুযায়ী মে-জুন মাসকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় হিসেবে ঘোষণা করেছি।’
প্রশাসক জানান, এই মাসে নগরের ড্রেনগুলোর মধ্যে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ চলছে। জলাবদ্ধতা দূর করতে যেসব এলাকায় সড়ক উঁচু করা এবং নতুন ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “৩০–৪০ বছরের জমে থাকা জঞ্জাল অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমরা কাজ করছি। এ জন্য সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
মঈনুল ইসলাম/নাঈম