দুর্যোগপূর্ণ বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল সাগর ও তীব্র ঝড়ো বাতাসের কারণে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার এবং হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে সাগর ও মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপের বেশ কয়েকটি নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণের কারণে সমুদ্র ও নদীপথে নৌ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় প্রশাসন ও নৌযান মালিকদের সিদ্ধান্তে সাময়িকভাবে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ট্রলার মালিক সমিতির সদস্য নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে ঢেউ অনেক বেশি। যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মালিকদের নির্দেশনায় সব ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযান বন্ধ রাখা হয়েছে।’
আমজাদ হোসেন নামে এক যাত্রী জানান, জরুরি পেশাগত কাজ শেষে তার হাতিয়ায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ঘাটে এসে দেখেন সব ধরনের জাহাজ, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ। ফলে তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। তার মতো আরও অনেক যাত্রী ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছেন।
নোয়াখালী জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়ার গতিবেগও বেড়েছে। আবহাওয়া আরও কিছু সময় বিরূপ থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুর থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না গিয়ে তীরবর্তী নিরাপদ স্থানে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
হানিফ/এসজি/