বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাচ্ছে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল। কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে যাচ্ছে সারা বছরের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফসল।
গত দুইদিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ার হাওর, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওর, তাহিরপুর উপজেলার শনিী হাওরসহ, জগন্নাথপু, দিরাই শাল্লাসহ ১০ উপজেলার হাওরের নীচু জমির ধানও ডুবে গেছে।
এদিকে মধ্যনগর ও শাল্লায় পানির নিচে তলিয়ে পাকা ধানের ক্ষতি হয়েছে বেশি।
কৃষকেরা জানান , হাওরে পানির নিচে ধান যা,নষ্ট হওয়ার সেগুলো তো হয়েছেই হাওর থেকে কেটে আনার পর রোদ না থাকায় খলা তেই পচে নষ্ট হচ্ছে ধান, পচা ধানে গেরা (চারা) উঠে যাচ্ছে। এখনও হাওরে তিন ভাগের দুইভাগ ধান রয়ে গেছে। শ্রমিক সংকটের কারণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া ধানও কেটে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এখনও হাওরে তিন ভাগ ধানের মধ্যে দুই ভাগ হাওরে রয়ে গেছে আর যে ধান কেটে এনেছেন সে ধানও খলাতে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ৫৬ সেন্টিমিটার। এই সময়ে বৃষ্টি হয়েছে ২২ মিলিমিটার। বৃষ্টি কম হলেও উজানের ঢলে জেলার সব নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। এতে করে জেলার হাওরগুলোতেও পানি বেড়ে জমির ধান তলিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে বিপাকে আছেন। অনেক ধান শুকাতে না পারায় সেগুলো খলাতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান মঙ্গলবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৪৪ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়াতেও কৃষক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষা করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, হাওরে পানি বাড়ছে। ধান কাটতে কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে। আবার বৃষ্টির কারণে কৃষকেরা মাড়াই করা ধানও শুকাতে পারছেন না। নানা দিক থেকে কৃষকেরা সংকটে আছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, আগাম বন্যার সব ধরণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলা শুক্ন খাবার, নৌকা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী/এসএন