গাজীপুরের টঙ্গীতে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন টঙ্গী এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় মহান মে দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি শুক্রবার (১ মে) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, এতে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া, টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তনের পরিচালক মিনু আফরোজ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক প্রকৌশলী এম.এম.মামুন-অর-রশিদ ও মহানগরের শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা-কর্মীসহ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া। বক্তারা মে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
টঙ্গী শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তনের পরিচালক মিনু আফরোজ বলেন, ১লা মে শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়- এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার মর্যাদা ও ন্যায্যতার সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। ১৮৮৬ সালের শ্রমিক আন্দোলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে অধিকার আদায়ের পথচলা শুরু হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই দিবস আমাদের সামনে নতুন করে দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই দিবস আমাদের শেখায়-শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তাদের অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত থাকে। সুতরাং, আজকের এই আলোচনা সভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিশ্রুতি আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি আরও বলেন, এ দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শ্রমিকের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতাই একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের মূল চালিকাশক্তি। এই প্রত্যয়ে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক নিরাপদ, সম্মানিত এবং সুস্থ জীবনের অধিকার ভোগ করবে। বর্তমান সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের এই অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষই মূল শক্তি। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের অবদান আমাদের জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
মিনু আফরোজ বলেন, অত্র শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন ১৯৬৩ সাল থেকে শিল্পে শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে প্রদত্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক শ্রম সংস্কৃতি গঠনে পুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মহান মে দিবসের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে, শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অবদান রেখে চলছে। শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন, টঙ্গী হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে বিরোধ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সুস্থ শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভুঁইয়া বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এক গৌরবময় ইতিহাসের দিন। এই দিনে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। গাজীপুর একটি শিল্পসমৃদ্ধ জেলা। এখানে লক্ষাধিক শ্রমিক দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের পরিশ্রম ও অবদানেই আমাদের শিল্পখাত এগিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক ও মালিকের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সুসম্পর্কের মাধ্যমেই একটি টেকসই ও উৎপাদনশীল শিল্প পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি সবাইকে আহ্বান জানাই, শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষা, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পলাশ প্রধান/নাঈম