কক্সবাজারের টেকনাফ পৌর বাস টার্মিনালটি ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই দশক ধরে এটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে টার্মিনালটি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে উপজেলা শহরে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
পর্যটকরাও কোথাও গাড়ি রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়াতে যেতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দাবি, পর্যটননগরীর শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজটমুক্ত করতে দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা হোক।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ২০০১-০২ সালে সাড়ে ১০ একর জমি ৪৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৮ টাকায় অধিগ্রহণ করা হয়। পরে ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়।
টেকনাফ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা শিক্ষার্থী মো. আরিফ বলেন, ‘পৌর এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে সময়ের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এমন অবস্থায় পরিত্যক্ত টার্মিনালটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা প্রয়োজন। এটি চালু করে সেখানে বাস রাখার ব্যবস্থা করা গেলে পৌর এলাকার যানজট অনেকটাই কমে আসবে।’
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা এক পর্যটক পরিচয় প্রকাশ না করে বলেন, ‘টেকনাফ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। অথচ চারদিকে বাউন্ডারি দেওয়া একটি বড় বাস টার্মিনাল অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পর্যটকদের জন্য সেখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। ভালো ওয়াশরুম নেই, খাবারের দোকানও নেই। এত বড় জায়গা থাকা সত্ত্বেও এভাবে অব্যবহৃত ফেলে রাখা দুঃখজনক।’
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি দিলে এবং পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করলে, পর্যটকরা এখানে গাড়ি রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। স্থানটি আরও আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
টেকনাফ বাস মালিক সমিতির সভাপতি হাসান আহমদ বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ না হওয়ার অভিযোগ সামনে আনেন তিনি। বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিয়ে বাস টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করলে এটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করা সম্ভব। এটি সংস্কার না করা পর্যন্ত শহরের যানজট সমস্যারও সমাধান হবে না।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, ‘বাস সমিতিকে ডেকে বাসগুলো টার্মিনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এগুলো এলোমেলোভাবে রাখার কারণে স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য তারা কিছুদিন সময়ও চেয়েছিল। তবে সেই সময় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন তাদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে রাস্তা ব্লক করে বাস রাখলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’