ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তারার দেশে সাইকেল যাত্রা মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ সরকারদলীয় এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে যে একাদশ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন রবিবার দারাজ ৬.৬ মিড-ইয়ার শপিং ফেস্টে থাকছে আকর্ষণীয় অফার, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড ডিসকাউন্ট ও পুরস্কার গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক মাদারীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত জাতীয় ফুটবলার রহমত মিয়ার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি রামিসা হত্যা মামলার রায় রবিবার, হতাশ আছিয়ার মা ঢাকার পরিবেশ নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি তিন মাসে অজনপ্রিয় সরকারে পরিণত হয়েছে: আসিফ মাহমুদ ভোলায় যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে পুশইনের চেষ্টা, দিনাজপুরে বিজিবির বাধা কী করে বুঝবেন আপনি মেন্টালি ফিট মেসির চোট নিয়ে যা বললেন স্কালোনি হিলি সীমান্তে ভারতীয় ৫ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি যে কারণে মুভি দেখব মহাকাশে যাচ্ছেন প্রথম শারীরিক প্রতিবন্ধী নভোচারী সময়ের সঙ্গে বদলান লিডারশিপ স্টাইল পঞ্চগড়ে পুশইনের শিকার ১০ জন, নিচ্ছে না কোনো দেশ শিবালয়ে ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পরে চেইন ছিনতাই জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সিলেট সীমান্তে জনগণকে সাথে নিয়ে বিজিবির মাইকিং ও টহল বৃদ্ধি গাড়ির দরজা খুলতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর দীর্ঘ ভ্রমণের আগে গাড়ির প্রস্তুতি
Nagad desktop

টেকনাফ থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৯:২১ এএম
টেকনাফ থেকে জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মি
ফাইল ছবি

মায়ানমারে অভ্যন্তরীণ সহিংসতার পর ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মংডু শহরসহ বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেয় সে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। এরপর থেকে শুরু হয় বাংলাদেশি জেলেদের নাফনদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। যা এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আটক জেলেদের শারীরিকভাবে নির্যাতন চালানো হয় এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। 

আরাকান আর্মির কবল থেকে নিরাপত্তার আশায় নাফ নদীর মোহনা এলাকায় সীমানা বয়া স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। জিরো লাইনে সীমানা বয়া না থাকায় গত এক বছরে আরাকান আর্মির হাতে ৩৮৫ জন জেলে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতায় ২১০ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো অনেক জেলে আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছেন। 

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে  নাফনদীর শূন্য লাইনে আরাকান আর্মির কাছ থেকে ৭৩ জন জেলেকে গ্রহণ করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টেকনাফ পৌরসভা ট্রানজিট জেটিঘাটে তোলে। পরবর্তী সময়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি এবং ৭ জন এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) নাগরিক। 

শাহপরীর দ্বীপ ডাংগরপাড়া এলাকার বাসিন্দার মো. কালুর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম জানান, শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে মাছ শিকারের সময় গত বছরের ২৫ আগস্ট সকাল ১০টায় সেন্টমার্টিনের পূর্ব পাশে সাগরে মাছ শিকারের সময় অস্ত্রের মুখে বহু জেলেকে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। দীর্ঘ  ৫ মাস ২৩ দিন পর বিজিবির প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়েছে। এদের  মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমও ছিলেন।

ডাংগরপাড়া এলাকার আরেক বাসিন্দা আবু সামার ছেলে নুর আলম বলেন, আমরা হলাম জেলে, আমাদের মাছ শিকার করে সংসার চালাতে হয়। সাগরে মাছ শিকারে গেলে মায়ানমারের জলসীমা অতিক্রম করার অপরাধে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। তারা আমাদের কোনো খাবার দিত না এবং হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মাটিকাটাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করাতো। বাংলাদেশ সরকার যদি জেলে পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে নাফনদী থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত সীমানা চিহ্নিত করার জন্য বয়া দেয়, তাহলে তা আমাদের জন্য উপকার হবে। তখন মায়ানমারের জলসীমায় আর আমরা প্রবেশ করব না।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, দ্বীপের বাসিন্দা হিসাবে সরকারের কাছে আমাদের দাবি- বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছে নত না হয়ে নাফনদীতে ড্রেজিং করে বিকল্প চ্যানেল ও জিরো লাইন চিহ্নিত করে  সীমানা শনাক্তকরণ বয়া বসানো। তাহলে জেলেদের  আরাকান আর্মির কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি  রাখাইন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী শহর মংডুর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের পর থেকে ঝামেলাটা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমায় কোনো চিহ্ন না থাকার কারণে আরাকান আর্মি বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। জান্তা সরকার থাকাকালীন এভাবে কখনো জেলেদের আটক করা হয়নি। যোগাযোগ ধরে এই চ্যানেল দিয়ে যাতায়াত করে যাচ্ছে ট্রলারগুলো। মাঝেমধ্যে আটক করলেও বিজিবির মাধ্যমে ফেরত আনা হয়।

তিনি বলেন, জেলে পরিবারের কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকার যদি যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমা চিহ্নিত করে বয়া দেয়, তাহলে বোঝা যাবে আরাকান আর্মি জেলেদের বাংলাদেশের জলসীমানা থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নাকি মায়ানমারের জলসীমানা অতিক্রম করায় ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, আরাকান আর্মি মংডু শহর দখলে নেওয়ার পর থেকে মায়ানমারের জলসীমা অতিক্রমের কারণে প্রায় সময় জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মি মোট ৩৮৫ জন জেলেকে আটক করেছে। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য বাহিনীর সহযোগিতায় বিভিন্ন ধাপে মোট ২১০ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে আনুমানিক ১৭৫ জন জেলে।
 
গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর স্লুইস গেটের দক্ষিণে নাফনদী ও এর মোহনা থেকে মাছ শিকারের সময় দুটি নৌকাসহ ৭ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। আটক জেলেরা হলেন- সাবরাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাল মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (৫০), নুর আহাম্মদের ছেলে সাব্বির আহমদ (৫৫), মৃত মকবুল আলীর ছেলে গুরা মিয়া (৭০) এবং নুরুল মিয়ানের ছেলে আব্দুল মতলব (৩৫),  শাহপরীর দ্বীপ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমতল আলী ও তার দুই ছেলে নুর আবছার ও আবদুর রহিম।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নাফ নদী ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশি জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে, যাতে জেলেরা নিরাপদে মাছ আহরণ করতে পারেন।

তিনি আরও জানান, জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে কাউন্সেলিং, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেমিনারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক জেলে অসাবধানতাবশত কিংবা বেশি মাছ ধরার আশায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা অতিক্রম করে ফেলেন। ফলে আরাকান আর্মির হাতে তাদের আটক হওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোস্ট গার্ড অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আটক জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত টহল জোরদারের মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমাতে কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলার প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, বাংলাদেশ-মায়ানমার জলসীমানা যেহেতু আন্তর্জাতিক সীমানা, তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সীমানা বয়ার ব্যবস্থা করা হবে। 

কক্সবাজার রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাছ শিকারের সময় মায়ানমারের জলসীমানা পার হলে বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরকান আর্মি। তবে বিজিবির সীমাবদ্ধতার কারণে সাগরের বিষয়ে কিছু করতে পারে না তারা।

মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
মহেশপুর সীমান্তে পুশইন রোধে বিজিবি-আনসার-গ্রামবাসীদের যৌথ টহল
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পাকরাইল জিরো পয়েন্টে পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে দফায় দফায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মহেশপুরের সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার শরিফের নেতৃত্বে স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্য ও গ্রামবাসীদের নিয়ে সীমান্তে প্রতিরোধ কার্যক্রম এবং পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

মহেশপুর সীমান্তের যাদবপুর বিওপি এলাকায় পুশইনের ঘটনা বেশি ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন যানবাহনে করে মানুষ এনে জড়ো করা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই যেকোনো সময় পুশইনের চেষ্টা করা হতে পারে।

এদিকে পুশইন রোধে মহেশপুর সীমান্তের অন্যান্য বিওপিতেও টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে পাকরাইল, চাঁদরতনপুর, কচুয়ারপোতা, বেলেয়াটি ও জীবননগর পাড়াসহ বিভিন্ন জিরো পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। বিজিবির নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (আনসার-ভিডিপি) এবং সাধারণ গ্রামবাসীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সীমান্তের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে দলবদ্ধভাবে পাহারা দিচ্ছেন তারা।

সামন্তা বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অবৈধ পারাপার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব।

বর্তমানে পাকরাইল জিরো পয়েন্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিনে মহেশপুর সীমান্তে পুশইনের ১০টি চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মহেশপুর সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের (পুশইন) ঘটনা ঘটেনি। পুশইন মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দফায় দফায় বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।’

রিফাত/

কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
কুড়িগ্রামে বিজিবির অভিযানে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা জিরা জব্দ
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে জামালপুর-৩৫ বিজিবি।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান স্বাক্ষতির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জামালপুর-৩৫ বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ও আজ (৬ জুন) সকালে জামালপুর-৩৫ বিজিবির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার ইজলামারী বিওপি, বড়াইবাড়ী বিওপি ও সাহেবের আলগা বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মোট ১৯১ বোতল ভারতীয় মদ ও ৪২ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে রৌমারী উপজেলার ইজলামারী বিওপির বিজিবির সদস্যরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী ১০৬৬ পিলারের কাছে বন্ধুরচর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বাহক বিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। অপরদিকে, একই রাতে বড়াইবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্যদের অভিযানে সীমান্তবর্তী চুলিয়ারচর নামক স্থানে ৩৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়াও আজ সকালে সাহেবের আলগা বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী ইটালুকান্দা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৬০ কেজি ওজনের ৪২ বস্তা ভারতীয় জিরা ও চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত একটি নৌকা উদ্ধার করে।

বিজ্ঞপ্তিতে জামালপুর-৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, মদ উদ্ধারের ঘটনায় রৌমারী থানায় পৃথক দুটি জিডি করা হয়েছে। মদের বোতলগুলো ধ্বংস করার জন্য ৩৫ বিজিবির ব্যাটালিয়ন দপ্তরে আনা হয়েছে। উদ্ধার করা জিরা রৌমারী শুল্ক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মাদক ও অবৈধ চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছি। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

আসমাউল আসিফ/নাঈম

সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা। ছবি: খবরের কাগজ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচতেনতা বৃদ্ধি এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে এ র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শনিবার (৬ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসুচির

উদ্বোধন করেন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত। 

পরে এক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ ঘোষ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজামুদ্দিন, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টুসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সোনারগাঁ পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন। 

র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং এর আশপাশের এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে স্থানীয়দের সচেতন করেন।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা ও মশক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমইে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

 

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
গোপালগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতামূলক র‌্যালি
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার লক্ষ্যে গোপালগঞ্জে সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন এ র‌্যালির আয়োজন করে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জন সচেতনতামূলক একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ র‌্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে .এম. বাবর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ফারিহা তানজিন এবং সহকারী কমিশনার (এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) অনিরুদ্ধ দেব রায়।

এসময় রেড ক্রিসেন্টের সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, স্কাউটস, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ র‍্যালিতে অংশ নেন।

র‍্যালি শেষে বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, “আগেও প্রতি শনিবার আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে আসছি। সেই কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার জন্য আজকের এই র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে। বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তাই কিভাবে ডেঙ্গুকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। এ রোগে মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এডিস মশা যেসব স্থানে জন্মায়, সেগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে। আজ থেকে আমরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।

জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে এবং গোপালগঞ্জ পৌরসভার বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাদল সাহা/এসএন

ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
ফরিদপুরে আমের প্রলোভন দেখিয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক
ফয়জুল্লাহ মোল্যা। ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফয়জুল্লাহ মোল্যা (৩২) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

অভিযুক্ত ফয়জুল্লাহ মোল্যা উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনি গ্রামের সোলেমান মোল্যার ছেলে এবং তিন সন্তানের জনক।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরের দিকে ফয়জুল্লাহর প্রতিবেশী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে দরজা আটকিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটির চিৎকার শুনে ফয়জুলের ঘর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার চাচি। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ফয়জুল। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী মেয়েটির বাবা স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ও মা বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করেন। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফয়জুল। তার স্ত্রী সম্প্রতি বেড়াতে গেলে শুক্রবার দুপুরে মেয়েটিকে একা পেয়ে আম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে আটক ও ভুক্তভোগীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। 

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য শনিবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টেপ সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নয়ন/রিফাত/