চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে হাসান রাজু (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোছাম্মৎ রেশমি আক্তার (১১) নামে পথচারী এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকার শহিদ মিনার কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রাজু ওই এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে, তিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের আবুল কালামের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘বিন্দু মাসির ছেলে রাজু’ নামে পরিচিত ছিলেন। আহত রেশমি স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদের মেয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টার পর একদল দুর্বৃত্ত শহিদ মিনার কলোনির প্রবেশমুখে অতর্কিত হানা দেয়। তারা রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় পাশ দিয়ে দোকানে যাওয়ার পথে শিশু রেশমি গুলিবিদ্ধ হয়। একটি গুলি তার চোখে লাগে। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বায়েজিদ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আহত শিশুকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, শিশুটিকে বর্তমানে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন ও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"
ওসি বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন।
শহিদ মিনার কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নাঈম/