পাবনার ঈশ্বরদীতে এবার সাড়ে ৩ লাখ গাছে লিচুর বাম্পার ফলন হলেও শেষ মুহূর্তের বৃষ্টি চাষিদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পরিপক্ব হওয়ার ঠিক আগে অতিবৃষ্টিতে লিচুর মান নষ্ট ও পোকা আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলন রক্ষায় বাগান মালিকরা এখন কীটনাশক ব্যবহারে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী দুই সপ্তাহ আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা রেকর্ড লাভের মুখ দেখবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর ছলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া, মুলাডুলি ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় শত শত লিচুর বাগান রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লিচু বাগান রয়েছে ছলিমপুর ও সাহাপুর ইউনিয়নে। ঈশ্বরদীতে মোজাফফর ও বোম্বাই জাতের লিচুর বেশি আবাদ হয় বলে এখানকার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের বাসিন্দা মুনসুর আলী মালিথা মুকুল দেখেই ১০০ গাছ কিনে লিচুর পরিচর্যা করছেন। তিনি জানান, এবার ঈশ্বরদীতে লিচুর আবাদ অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি। প্রত্যেকটি গাছে লিচু আর লিচু। লিচুর ভারে গাছ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। পরিপক্ব হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বৃষ্টি হলে লিচুর গঠন ঠিকমতো হয় না। তা ছাড়া পোকা ধরে লিচু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লিচুতে পোকা ধরা ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন বলে জানান তিনি।
কথা হয় একই ইউনিয়নের মিরকামারী জয়নগর গ্রামের এক হাজারের বেশি লিচুগাছের মালিক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল মণ্ডলের (লিচু কিতাব) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা এবার ঈশ্বরদীতে এত লিচু দিয়েছেন, যা হিসাব করা মুশকিল। তবে কিছু সমস্যাও হচ্ছে। লিচু এখন পরিপক্ব হওয়ার সময়। কোয়ালিটিসম্পন্ন লিচুর হওয়ার ক্ষেত্রে বৃষ্টি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ থেকে লিচু রক্ষায় কৃষক ও ব্যাপারীরা এখন প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক ব্যবহার করছেন।’
ছলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘লিচু পরিপক্ব হওয়ার জন্য বৃষ্টি ও রোদ দুটিই প্রয়োজন। তবে লিচু হারভেস্ট হওয়ার আগে বৃষ্টির চাইতে রোদের প্রয়োজন বেশি। কিন্তু সেটার পরিবর্তে এখন প্রায় দিনই বৃষ্টি হচ্ছে, যা লিচুর জন্য ক্ষতিকর।
চাষিরা লিচু রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহার করছেন। না করেও উপায় নেই। আমাদেরও পরামর্শ রয়েছে এ সময় কীটনাশক ব্যবহার করার জন্য।’
তিনি জানান, কীটনাশক ছিটানোর পর ৩-৪ ঘণ্টা যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে সেটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ জন্য কৃষকরা এখন সজাগ রয়েছেন লিচু আবাদের জন্য।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল মমিন বলেন, ‘রোদ-বৃষ্টিতে কারও কিছু করার নেই। তবে ফসল আবাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকের করণীয় সম্পর্কে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। লিচু রক্ষায় কৃষকরা যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে বৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত হয়নি। আর কয়েক দিন যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে চাষিরা গাছ থেকে লিচু সংগ্রহ শুরু করবেন। আশা করি, এবার চাষিরা ব্যাপক লাভবান হবেন।’