টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর দুই ইউনিয়নের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেও জমে থাকা পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তারা ৫০০ বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে পারছেন না।
পানিতে ডুবে ধানের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। আবার ধান কাটার শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও শ্রমিক মিললেও দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের কাঙ্ক্ষিত দামও মিলছে না। বিক্রি করতে হচ্ছে অর্ধেক দামে। এতে কৃষকরা নানামুখী সংকটে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এ সমস্যার সমাধানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২০ সালে ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ক্যানেল (ড্রেন) নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যানেলটি কৃষি জমির তুলনায় উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বরং সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার দৌলতপুর ও খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের গড়পিংলাই, বারইপাড়া, গণিপুর, আদাপাড়া, ঘোনাপাড়া, পলিপাড়া, লক্ষ্মীপুর, মহেশপুর ও মহদীপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ধানখেত এখনো পানির নিচে ডুবে রয়েছে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে নেমে কৃষকরা ধান কাটছেন।
মহদীপুর গ্রামের বর্গাচাষি মোহাম্মদ আলী ও মোজাফফর হোসেন। চার থেকে পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে তাদের প্রায় ৬৫ বিঘা জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে এক বিঘার ধান কাটতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন একই জমির ধান কাটতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এত খরচ করে ধান তুলেও লাভ হচ্ছে না।’ মোজাফফর হোসেনও একই সুরে কথা বলেন।
কথা হয় বারইপাড়া গ্রামের আরও কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে। তাদের একজন মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সারা বছর কষ্ট করে ধান ফলিয়েছি। এখন পানিতে ডুবে সব শেষ হওয়ার পথে। যে ধান তুলতে পারছি তা ব্যবসায়ীরা মণপ্রতি মাত্র ৬০০ টাকা দাম বলছে। অথচ ভালো ধানের বাজারদর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।’
গোনাপাড়ার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে বাকি ধানও নষ্ট হয়ে যাবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিজ বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাসান বলেন, ‘এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’