চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিখোঁজের ৭ দিন পর শওকত আলী (৩৩) নামে এক বাংলাদেশির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
শওকত আলী শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুঁঠাপাড়া এলাকার মৃত মিজানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ১০ মে অন্যদের সঙ্গে গরু আনার জন্য ভারতের দিকে যান শওকত আলী। তবে তার সঙ্গীরা ফিরে এলেও তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, গরু নিয়ে ফেরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। শনিবার রাতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে মধ্যরাতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
এদিকে রবিবার বিকেলে জেলা হাসপাতালে নিহত শওকতের চাচা আনারুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১০ মে রবিবার খাসি কিনে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় শওকত। সেই থেকে সে নিখোঁজ ছিল। কেউ বলছে গরু আনতে, কেউ বলছে মাছ ধরতে গেছে, কেউ বলে কলা বাগানে কাজে গেছে। আসলে কোনটা সত্য কি করে বলবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর জেলেদের বলে এসেছিলাম নদীতে মরদেহ ভাসলে আমাদের জানাতে। সকালে মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে মরদেহের কোনো আকৃতি নেই, ফুলে মোটা হয়ে গেছে। আমার ভাতিজার একটা দাঁত ভাঙা ছিল, সেই দাঁত দেখেই আমরা নিশ্চিত হই।’
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, ‘পরিবারের লোকজন পদ্মা নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার করে গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রাতে খবর পেয়ে বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি পদ্মা নদীতে হওয়ায় বিষয়টি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।’
গোদাগাড়ী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন চন্দ্র রায় বলেন, ‘মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, পা ও বুকের জখম গুরুতর। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে নিহত ব্যক্তি চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুনেছি ১০ মে ভারতে কয়েকজন গরু আনতে যায়। পরে অন্যরা ফিরে এলেও একজন নিখোঁজ ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফরিদপুর বিওপির সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে পরিবারের লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করে এবং পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবার লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি।’
আসাদুল্লাহ/রিফাত/