ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যশোরের শার্শায় গরু-ছাগলের পাশাপাশি এবার বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মরুর জাহাজখ্যাত উট ও দুম্বা। সীমান্তবর্তী পুটখালী ও বাগআঁচড়া অঞ্চলের দুই খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৭টি উট ও ৩৫টি দুম্বা। বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা এসব পশুর ইতোমধ্যে দুটি উট ও সাতটি দুম্বা বিক্রি হয়েছে।
খামার মালিকরা জানান, বছরজুড়ে বিশেষ যত্নে পশুগুলো পালন করা হয়েছে। একেকটি উট ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। একটি উট থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ মাংস পাওয়া যায়। উটগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
খামারের শ্রমিকরা বলেন, ঈদ উপলক্ষে উটগুলোর বাড়তি যত্ন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন গোসল করানো হয়। নিয়মিত ভুট্টা, ঘাস ও ছোলা খাওয়ানো হয়। নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা মেনে পশুগুলোকে সুস্থ রাখা হচ্ছে।
উটের খামার মালিক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘মরুভূমির এই প্রাণী আমাদের দেশের আবহাওয়ায় লালন-পালন করা বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। তবে কোনো কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। খৈল, ভুসি, কাঁচা ঘাস আর খড় খাইয়েই উটগুলোকে বড় করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় এবার উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে এবার উটের ভালো চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের শৌখিন ক্রেতারা যোগাযোগ করছেন।’
দুম্বার খামারের মালিক তাসনীম জুবায়ের বলেন, ‘ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২৪ সালে বাবার সহায়তায় নাটোরের বনপাড়া থেকে ৮ লাখ টাকায় সাতটি দুম্বা কিনে খামার শুরু করেন। দুই বছরের মধ্যে সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় খামারে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৫টি দুম্বা রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় অর্ধলাখ টাকা।
প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে শার্শা উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৭৯৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৫৮২টি গরু, ১২ হাজার ১৭১টি ছাগল, ৩৫টি দুম্বা এবং ৭টি উট।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তপু কুমার সাহা বলেন, উট ও দুম্বা বিদেশি প্রাণী হওয়ায় বিশেষ যত্ন নিতে হয়। এগুলোর সুস্থতায় নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের ভেটেরিনারি টিম মাঠে কাজ করছে, যেন কোনো খামারি ক্ষতিকর স্টেরয়েড ব্যবহার করতে না পারে। এবারও খামারিরা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এবারও প্রাকৃতিক উপায়ে নিরাপদ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।