চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা এলাকায় আয়শা খাতুন নামে এক বিধবা ও তার পরিবারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৩০ মে) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলায় তার ঘেরা বেড়া ভাঙচুর এবং আসবাবপত্র লুটের পাশাপাশি বিধবার দুই আলেম সন্তান মওলানা হাফেজ ইসহাক ও মওলানা মোহাম্মদ সেলিমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসময় তারা পার্শ্ববর্তী জাকের হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
হামলায় জাকের হোসেনের দুই শিশু সন্তান মোহাম্মদ সোহেল (১১) ও মোহাম্মদ জুনাইদ (৯) আহত হয়েছে।
পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা এলাকার কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। হামলা চলাকালে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো ৯৯৯ এর ফোন দিলে গভীর রাতে বাঁশখালী থানার এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করেন।
গত বছরের এপ্রিল মাসেও বিধবা আয়শা খাতুনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল প্রতিপক্ষরা। মূলত; জায়গা জমি আত্মসাৎ ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতেই বারবার এই হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডিপুটিঘোনা এলাকার শফিকুর রহমান ২২-২৩ বছর আগে মারা যান। সেই থেকে প্রতিবেশী কবির আহমদের ছেলে হারুনুর রশিদ তাদের সম্পত্তি গ্রাস করতে এবং বিধবা আয়শা খাতুন ও তার সন্তানদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে হুমকি ধমকি ও হামলা মামলা করছে।
শনিবার বিরোধপূর্ণ জায়গায় শালিশকারদের উপস্থিতিতে পিলার ও টিনের ঘেরা দেওয়ার পর গভীর রাতে লোকজন নিয়ে হারুনুর রশিদ সেখানে হামলা চালায়। তারা ঘেরা বেড়া ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি বিধবা আয়শা খাতুনের বসতবাড়িতেও হামলা চালায়।
স্থানীয় আজিজ আহমদ, কাসেম ফকির ও আহমদ কবির জানান, গভীর রাতে সন্ত্রাসী হামলা থেকে প্রাণ বাঁচতে বিধবা আয়শা খাতুনের ছেলে মওলানা হাফেজ ইসহাক ও মওলানা সেলিম প্রতিবেশী জাকের হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা চালানো হয়। তারা জানান, আমরা বিধবা পরিবারটিকে উদ্ধার করতে গেলে আমাদেরও হুমকি গালাগালি এমনকি হামলা করা হয়।
আয়শা খাতুনের জামাতা আবু বকর জানান, আমার শাশুড়ি ও পরিবারকে হয়রানি করে জায়গা আত্মসাৎ করতেই এই হামলা ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিচারক আবদুল জলিল মানিকের মাধ্যমে খুঁটি ও ঘেরা দেওয়া হলেও রাতে সন্ত্রাসী এনে সবকিছু ভেঙে গুটিয়ে দেওয়া হয়।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক জানান, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ আক্রান্তদের উদ্ধার করেছে। এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেছেন।
শফকত হোসাইন চাটগামী/এসএন