বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি আরসিসি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এদিকে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চারটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের খালের ওপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের জুলাইয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে নানা অনিয়ম ছিল। নির্মাণকাজ চলার সময় বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়নি। পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর থেকে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নেয়। এর পর থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও রেলিং, এপ্রোচ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেতুর পূর্বপাশ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও পশ্চিমপাশ গিয়ে শেষ হয়েছে একটি পুকুরের ধারে। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হলে পুকুর ভরাট ছাড়া বিকল্প নেই বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় সেতুর বিভিন্ন অংশ লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।
নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মতি বলেন, ‘ছোট একটি খালের জন্য এত বড় সেতুর প্রয়োজন ছিল না। সেখানে ৬ থেকে ৭ মিটারের একটি কালভার্টই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু সেতুর প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করেই কাজ ফেলে রেখেছে।’ একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাগর শরীফ বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছেন। এতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মেহেদী হাসান বাদল চূড়ান্ত বিল নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনো বিল পাওনা রয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে।’ চূড়ান্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার চলতি বিল নিয়েছেন, চূড়ান্ত বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি।’
তবে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের শুরুতেই প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে।