ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে কোনো নদী-খাল-বিল কিছু নেই এমনই এক জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হচ্ছে মস্ত বড় এক ব্রিজ। যাতে ব্যায় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ব্রিজটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ।
ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে এত টাকা খরচ করে অযথা ব্রিজ নির্মাণ করা মানে সরকারি টাকার অপচয়। এ যেন ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা নামক স্থানে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। এক সময় এখানে থাকা একটি খালের ওপর একটি সেতু ছিল। কিন্তু এখন ওই এলাকায় অনেক আগেই বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে। ফলে নদী-খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। এক পাশে ছোট্ট একটি ডোবার মতো রয়েছে। তার ওপর মস্ত বড় সেতু নির্মাণ যেন এক আজব কল্পনা। স্থানীয়রা স্থানটিতে এতো টাকা ব্যায়ে কোনো সেতু নির্মাণ প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না। তারপরও অপরিকল্পিতভাবে সড়ক বিভাগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করে চলছেন মস্ত বড় সেতুটি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে একসময় ছোট বড় অনেক সেতু থাকলেও সড়কটির বেশিরভাগ জায়গাতেই এখন কোনো সেতু নেই। প্রয়োজন না থাকায় সেতুগুলো উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বড় অংকের টাকা খরচ করে একটি সেতুটির নির্মাণ নজর কেড়েছে। নদী ছাড়া, খাল ছাড়া পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন সেতু নির্মানের বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি তাদের রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে অবরন ট্রেডার্স লিমিটেড। যার স্বত্বাধিকারী মো. মাজেদ শেখ। ব্রিজটির প্রয়োজন এক সময় থাকলেও এখন আর এর প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফজলুল রহমান বলেন, এখানে না আছে নদী-খাল, না আছে নালা। না আছে বড় কোনো জলাশয়। এ ছাড়া দু পাশেই রয়েছে বাড়ি-ঘর। এখানে এতো বড় ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে সরকারের বড় অংকের টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা মো. তারা প্রামাণিক জানান, দুই পাশে বাড়ি-ঘর গড়ে ওঠার কারণে এখন আর এখানে ব্রিজের কোনো প্রয়োজন ছিল না। এখানে এক সময় ব্রিজের খুব দরকার ছিল। কিন্তু সে ব্রিজ কালের বিবর্তনে এখন আর প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে দুপাশে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।
সেতুটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবরন ট্রেডার্স লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন বলেন, সেতুটির দৈর্ঘ্যে ৪৪ মিটার। দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। এখন সেতুর নিচের পাইলিংয়ের কাজ চলছে। তবে প্রয়োজন নেই তারপরও কি কারণে এখানে এতো বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর জানান, পূর্ব থেকেই এখানে ব্রিজ ছিল। যার কারণে আমরা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানোর পর এটি পাস হয়ে এসেছে। যেহেতু এখানে ব্রিজ ছিল সেহেতু এখানে ব্রিজ তুলে ধরেই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে আমাদের। ওই স্থানে ব্রিজ প্রয়োজন নাই এটা আমরা লিখতে পারিনা।
নয়ন/নাঈম