কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট দুর্বৃত্তরা।
পাকুন্দিয়া মডেল থানা থেকে ৫০ গজ দক্ষিণে এমন ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) মধ্যরাতে এই ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মজনুকে সকাল ৬টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা অফিসের ঝাড়ুদার মোবাইলে এই ভাঙচুর লুটপাটের খবর জানায়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্বৃত্তরা কার্যালয়টিতে শুধু ভাঙচুরই করেনি, আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
কার্যালয়টির এক পাশে টিনশেড ঘরে স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের কার্যালয় এবং অন্যপাশে আরেকটি টিনশেড ঘরে থাকতেন মুক্তিযোদ্ধা হজরত আলি। দুটো ঘরই ভেঙে নিয়ে গেছে তারা। আসবাবপত্র ও নথিপত্র যেগুলো নিতে পারেনি, সেগুলো ভাঙচুর ও তছনছ করে রেখে গেছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা একে এম ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, এখানে ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এই মাসের ২৬ জুন মামলার তারিখ রয়েছে। অফিসে বসার চেয়ার টেবিল সবকিছু ভাঙচুর করে চালের ঢেউটিন, রুমে থাকা টেলিভিশন এমনকি বিদ্যুতের মিটার ও বৈদ্যুতিক তারসহ নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাজারে রাতের বেলা পাহারাদার থাকে। কে বা কারা করেছে আমরা বলতে পারছি না।
পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন মজনু খবরের কাগজকে বলেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে মোবাইলে খবর পেয়ে অফিসে এসে দেখলাম এই অবস্থা। প্রতিটি দরজা ভাঙা, রুমের ফ্যান, টেলিভিশনসহ বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে গেছে। ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন জালাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রূপম দাস এসে দেখে গেছেন। পুরোনো কিছু কাগজ ছাড়া সবকিছু ভেঙে ফেলেছে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী সবাই। কিন্তু এরা দুর্বৃত্ত, এদেরকে সবাই ভয় পায়। এদের সম্পর্কে কেউ মুখ খুলতে রাজি না।
পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক বলেন,“রাতের আঁধারে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা জানি না। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের জায়গাটি নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। জায়গার মালিকানা সংক্রান্ত সব কাগজপত্র আমাদের কাছে বৈধভাবে সংরক্ষিত আছে। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে পুলিশের অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
যোগাযোগ করা হলে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
তাসলিমা আক্তার মিতু/এসএন