ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডাক্তারের চেম্বারে একদিন চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু: মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে ভক্তদের অলৌকিক প্রার্থনা ফিফার বাপ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত জামালপুরে স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড ও শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল পটুয়াখালীতে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু গফরগাঁওয়ে স্বামীকে ঘরে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ চীনের ডেইরি কারখানায় উৎপাদন বাড়াচ্ছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে? বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে দারাজ টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৪টি সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা গোল করার পর কান্নার কারণ জানালেন মেসি রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ সোনামসজিদ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সময়মতো পূর্বাভাসেই বেঁচে যাচ্ছে চীনের জুঁই বাজেটকে একটি গোষ্ঠী গণবিরোধী বলছে: প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারে নারী-তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর জনসভা শরীয়তপুরে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল মাঠে মদ্রিচ আমার ডান হাত: জ্লাতকো ডালিচ প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি: সিপিডি ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী শরীয়তপুরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের ‘আমরাই মেসির কাজটা সহজ করে দিয়েছি’, বললেন আলজেরিয়ার কোচ জয়পুরহাটে পুত্রবধুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার আর্জেন্টিনার জার্সির পেছনে ‘১৮৯৩’ লেখা থাকার কারণ কী? বিশ্বকাপ জয়ের এটাই সেরা সুযোগ: হ্যারি কেইন মেসি বন্দনায় ভাষা হারিয়েছেন স্কালোনি
Nagad desktop

বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বরিশালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরম, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক হারে রোগী ভর্তি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং  সদর হাসপাতালে অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রামক রোগের এই বহুমুখী চাপ জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আট দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২১ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তবুও নতুন আক্রান্তের ধারাবাহিকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র চারটি। রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ছয়টি শয্যা যুক্ত করে মোট ১০টি বেড চালু করা হয়েছে। তবে শয্যার তুলনায় প্রতিদিন রোগী বেশি আসায় অনেককেই হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চিকিৎসা নিতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক রোগী ভর্তি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়নি। হাসপাতাল থেকেই বেশির ভাগ ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।’

তাসলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার শ্বশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে আশপাশের অনেক মানুষও অসুস্থ হচ্ছেন।’
সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন ভর্তি হন ১৩ জন, ৫ জুন ২০, ৬ জুন ১৩, ৭ জুন ১৯, ৮ জুন ২১, ৯ জুন ১৮, ১০ জুন ১৭ এবং ১১ জুন ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। 

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত পানির মাধ্যমে রোগজীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।

এদিকে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এখন খুবই জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

ডা. লোকমান হাকিম আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত স্যালাইন গ্রহণ ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল
ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লায় স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করা এবং দক্ষ শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘চাকরি মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুমিল্লা টাউন হল মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ এ মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার শহর ও উপশহর এলাকার প্রান্তিক তরুণ-তরুণীদের দক্ষ ও অভিজ্ঞ কারিগরের অধীনে ‘ওস্তাদ-শিষ্য’ পদ্ধতিতে কারিগরি দক্ষতা প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পের শিক্ষানবিশ কার্যক্রমের আওতায় যারা সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, তাদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি সুসংহত সেতুবন্ধন তৈরি করাই ছিল এই মেলার মূল লক্ষ্য।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী।

পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মো. ইউনুছের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইসহাক এবং পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সভাপতি ডা. এ কে এম আব্দুস সেলিম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার জহিরুল হক দুলাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক শান্তি রঞ্জন ভৌমিক, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা জেনু, সুজনের কুমিল্লা জেলা সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান এবং বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের প্রায়োগিক কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং সরাসরি চাকরি মেলার আয়োজন বেকারত্ব দূরীকরণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

দিনব্যাপী এ মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের উপপরিচালক (ক্রেডিট) ও রেইজ প্রকল্পের ফোকাল পারসন চৌধুরী শওকত আহমেদ এবং উপ-পরিচালক (এমআইএস) বিকাশ চন্দ্র সাহা।

জহির শান্ত/রিফাত/

পটুয়াখালীতে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
পটুয়াখালীতে সেপটিক  ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নে নতুন নির্মিত একটি সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- চৌদ্দবুড়িয়া এলাকার শিকদার বাড়ির আব্দুর রাজ্জাক ফকিরের ছেলে মোহাম্মদ নূহু (২৫) এবং একই এলাকার আশরাফ মোল্লা (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বাড়ির বাথরুমের জন্য নির্মিত সেপটিক ট্যাংকির ভেতরে কাজ করার সময় প্রথমে নূহু অসুস্থ হয়ে ভেতরে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করতে নামেন আশরাফ মোল্লা। একপর্যায়ে তিনিও ট্যাংকির ভেতরে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় লোকজন ট্যাংকির অংশ ভেঙে দুজনকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে তারা মারা গেছেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, ট্যাংকিতে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হাসিবুর রহমান/খাদিজা রুমি/

রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
রংপুরে হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোয় মহাসড়ক অবরোধ
মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ছয়লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টা থেকে নগরীর মর্ডান মোড়ের তুলা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে ছয় লেনের রাস্তায় অবরোধ করেন চাষি এবং ব্যবসায়ীরা।

জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক চাষী ও ব্যবসায়ী। তারা মহাসড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর আগে সড়কের অটো-লেনে তারা মানববন্ধন করেন।

এ সময় তারা অভিযোগ করেন, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা বড় লোকসানে পড়েছেন।

অবরোধে একাত্মতা ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ, জেলা কৃষকদলের সভাপতি আনোয়ার সাদতের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতারা।

অবরোধের কারণে রংপুর বিভাগের সাত জেলার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

এ সময় আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ’হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

তৌহিদ তৈয়বুর রহমানের অভিযোগ, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতিবছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে। দূরের সিন্ডিকেটের কারণে এই পরিস্থিতি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ’কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সা বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণমূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

এ ছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয় সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ’আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজদের মূল্য কমানোর দাবিতে অবরোধ করেছিলেন। বেলা ১টায় তারা অবরোধ স্থগিত করেন। দেড়টার মধ্যে আমরা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করি।’
 
সেলিম সরকার/আজহার 

ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
ওয়াহিদুল হত্যার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল আদালত চত্বর
ছবি: খবরের কাগজ

পেকুয়ার মাতামুহুরী উপজেলায় সাত বছরের শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর। 

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ও ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠীরা আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়।
​এ সময় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়।

​মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ মিজান খবরের কাগজকে বলেন, সাত বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। 

গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের ইজিবাইকচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম। নিখোঁজের দুই দিন পর মঙ্গলবার সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে বলাৎকারের পর হত্যা করে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা মঙ্গলবার তিনজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখান থেকে একজন স্বীকার করে তারা ওয়াহিদকে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ আসামিদের আদালতে তোলা হয়।

জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

​চকরিয়া থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতে আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। 

রকিবুল হাসান/থিওটোনিয়াস

ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ভারতে ৩ বছর কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ৬ নারী
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতে তিন বছর কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৬ বাংলাদেশি নারী। 

বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ফিরে আসা নারীরা হলেন- নুসরাত মণ্ডল, ফাতেমা জিন্নাত, মিম আক্তার, সাদিয়া আক্তার, রিপা খাতুন ও আরোহী মণ্ডল। তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল ও চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।

ফিরে আসা ফাতেমা জিন্নাত বলেন, ‘ভালো কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে তারা ২০২৩ সালে সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতের হায়দরাবাদে যান। সেখানে বাসাবাড়ি ও বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় দেশটির পুলিশের হাতে আটক হন তারা। পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে পাঠায়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আদালত তাদের তিন বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে একটি শেল্টার হোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতা এবং ভারত সরকারের দেওয়া বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তারা বুধবার সকাল ১১টায় দেশে ফেরেন।’

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মুর্তজা আলী জানান, ভারতফেরত ৬ নারীকে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন বলেন, ‘ফেরত আসা নারীদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

নজরুল ইসলাম/রিফাত/