ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া জিহাদ হাওলাদারের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়ার বারাকপুর গ্রামে। স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই লেখাপড়া ছেড়ে বাবা জয়নাল হাওলাদারের সঙ্গে রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন।
একপর্যায় দুটি মারামারির মামলায় জড়িয়ে পড়ে গা ঢাকা দেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আমানুল্লাহ সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়ার সঙ্গে খুলনায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশে পরিচয় হয় তার।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, এলাকা ছাড়ার পর জিহাদ ঢাকায় একটি বস্তিতে থাকতেন এবং ছিনতাই-ডাকাতি করতেন। তার নামে ঢাকার বিভিন্ন থানায় চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।
গোয়েন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে ঢাকায় সিরিজ ডাকাতির ঘটনায় ডিবির তেজগাঁও বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন। এই মামলা থেকে শিমুলের মাধ্যমে জামিন নিয়ে দেশ ছাড়েন। শিমুল ভূঁইয়ার হাত ধরেই জড়িয়ে পড়েন অপরাধে।
ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, জিহাদের বিরুদ্ধে খুলনার দিঘলিয়া থানায় ২০২৩ সালে একটি মামলা হয়। এর আগে ২০২০ সালে এলাকায় মারামারির দুটি ঘটনায় দুই মামলায় আসামি হন। মারামারির ঘটনায় মামলায় ৮ মাস জেলও খেটেছেন তিনি।
মামলার তদন্ত তদারকসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর বহু আগে থেকে শিমুলের সঙ্গে জিহাদের পরিচয়। ভারতে শিমুলের আশ্রয়েই থাকতেন তিনি। ভারতীয় পুলিশকে হত্যার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন জিহাদ। আনার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে ৫ জন খুলনার।
এ ছাড়া একজন টাঙ্গাইলের, একজন ভোলার ও দুজন ঝিনাইদহের রাজনৈতিক নেতা।
দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর বাজারের পাশে টিনশেডের বাড়িতে থাকে জিহাদের পরিবার। তার ছোট ভাই জায়েদ বারাকপুর এলাকার আনসার হত্যা মামলার আসামি। জিহাদ ঢাকা ও যশোরের দুটি মামলায় জড়িয়ে পড়ে গা ঢাকা দেন বলে জানান তার স্ত্রী মুন্নি বেগম। বাড়ি ছাড়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। এর মধ্যে এক দিন তার খোঁজে যশোর থেকে ডিবি পুলিশ বাড়িতে এসেছিল।
সর্বশেষ ৯ মাস আগে ফোন করে এক-দেড় মিনিট কথা বলে শিশুসন্তান ও মা-বাবার খোঁজখবর নেন জিহাদ। এ সময় জিহাদ তার অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানাননি।