চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৫০) হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজানের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুল হক চৌধুরীকে একদল অস্ত্রধারী প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।
মাসুদুল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।
রাউজান রাঙ্গুনিয়া দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি প্রশাসন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিলিংমিশনে শটগান হাতে থাকা (গোলাপি রঙের শার্ট পরিহিত) সন্ত্রাসীর নাম মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ধামা ইলিয়াছ, পিস্তল হাতে থাকা (মাথায় ক্যাপ ও জলপাই রঙের টিশার্ট পরিহিত) ছিলেন মো. ইউছুপ ও দিদারুল আলম (কালো জিন্স প্যান্ট ও জলপাই রঙের টি-শার্ট পরিহিত) এবং শটগান হাতে ছিলেন কালো টিশার্ট পরা আবছার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান হাতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী ছাড়াও মাসুদুল হত্যার মিশনে ব্যাকআপ টিমে ছিল মো. পারভেজ ও মো. আইয়ুব নামের স্থানীয় আরও দুই ‘সন্ত্রাসী’।
অস্ত্রধারী পাঁচজনসহ মাসুদুল হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া সাতজনই বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডার।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের ভাষ্য, ধামা ইলিয়াছ দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও রাউজান থানায় একাধিক হত্যা মামলা আছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টের হাটে স্ত্রী-কন্যার সামনে সেলিম নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদুল দৌড়ে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদুলকে আবারও গুলি করেন। ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদুলকে গুলি করে দ্রুত চলে যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। অপর অটোরিকশা থেকে নেমে সন্ত্রাসীরা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিতে মাসুদের মাথার মগজ বেরিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) কার্যালয়ের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই। হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের একজনের মুখে ছিল কালো মুখোশ। অন্য ব্যক্তিদের চেহারা স্পষ্ট সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের হাতে শটগান দেখা যায়।
যদিও চৌমুহনী বাজারে বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টির বেশি সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। তারপরও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করছেন না।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার মাসুদুলের মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দিদারুল আলম/ খাদিজা রুমি/