ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফিটনেস প্রশ্নে রোনালদো, ‘আমাকে খেলতে দেখেননি?’ ‘জাপানি মেসি’র সঙ্গী উয়েদা এমবাপ্পের সমালোচনা ‘অতিরিক্ত ও অন্যায়’ দেড় দশকের জ্বালানিনীতি ছিল আমদানিনির্ভর: তথ্যমন্ত্রী ইরানের অনুশীলন মাঠের পাশে মরদেহ উদ্ধার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ ইমার্জিংদের ঝিলিকের মৃত্যুর রহস্যে নতুন মোড়, গ্রেপ্তার স্বামী রক্তদান মহৎ কিন্তু নিরাপদ রক্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ
Nagad desktop

রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৫, ১১:৪৯ এএম
রূপগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২৭টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয়। এসব গ্যাং মাদক ব্যবসা, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গ্যাং সদস্যদের বয়স কম হলেও তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র রয়েছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালালেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী গ্রেপ্তার হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত রূপগঞ্জ উপজেলা। এতে রয়েছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা ও পূর্বাচল উপশহর। এখানে সারা দেশের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। শিল্প-কারখানা, আবাসন প্রকল্পে বালু ভরাট, জমি দখল, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় অন্তত ২৭টি কিশোর গ্যাং গ্রুপ গড়ে উঠেছে। এই গ্যাংগুলোর কারণে রূপগঞ্জ উপজেলায় বাড়ছে হানাহানি ও সংঘাত। মাদক বিক্রি-সেবন, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। দিন দিন তাদের অপরাধবোধ বেড়ে চলেছে। এমনকি দিনের আলোতে তাদের অপকর্ম চালানো হচ্ছে।

বিগত সরকারের শাসনামলে ও সরকার পতনের পর রূপগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে এসব কিশোর গ্যাং। তাদের সংখ্যা ৪০০-এরও বেশি। এই গ্যাংগুলোর কাজ হলো এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করা। এসব গ্যাংয়ের পেছনে থাকেন এলাকার রাজনৈতিক বড় ভাইয়েরা। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তথাকথিত বড় ভাইয়েরা গা ঢাকা দিলেও বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রূপগঞ্জের তারাব এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শিমুল ও শ্রাবণ গ্রুপের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে দুই গ্রুপের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে শ্রাবণ গ্রুপের রাশেদুল ইসলাম ও জুনায়েদ আহমেদ হৃদয় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনার পর আবারও সামনে আসে কিশোর গ্যাংগুলোর অপরাধ। যেসব বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সেই বয়সেই হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

রূপগঞ্জে বিভিন্ন কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। যেমন: কিং মাস্টার, শুটার গ্রুপ, গুই গ্রুপ, ডি কোম্পানি, টাইগার গ্যাং, টেনশন গ্যাং, ডেঞ্জার গ্রুপ, শাওন গ্রুপ, সুইচ গ্রুপ, স্যাভেজ গ্রুপ, কুড়াল গ্রুপ, পিনিক গ্যাং, হাতুড়ি গ্যাং, সজীব গ্যাং, আমির গ্যাং, ইভান গ্যাং, পাটানী গ্যাং, আলেক্স গ্রুপ, সেভেন স্টার গ্রুপ, ইয়াং স্টার, ব্লেড গ্যাং, কসাই গ্যাং, লাদেন গ্যাং এবং বাবা গ্যাং। এসব গ্যাং বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মুড়াপাড়ায় চারটি, তারাব পৌরসভায় পাঁচটি, কাঞ্চন পৌরসভায় তিনটি, ভুলতা ইউনিয়নে দুটি, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে দুটি, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন এবং ৩০০ ফুট সড়ককেন্দ্রিক দুটি, ভোলাব ইউনিয়নে দুটি, দাউদপুর ইউনিয়নে দুটি, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচটি গ্যাং গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তার করছে।

প্রতিবাদ করলেই ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। গুম, খুন, পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে লুটপাট, ভাঙচুর, জমি দখলসহ নানা পন্থায় প্রতিবাদকারীদের জীবনকে বিষিয়ে তোলে এসব কিশোর গ্যাং। ফলে স্থানীয়রা ভয়ে এসব গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না। অপরাধী কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করলেও রাজনৈতিক গডফাদারদের কারণে সঠিক বিচার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে প্রেমসংক্রান্ত ঘটনায় দুই কিশোরের মধ্যে সংঘর্ষে সজীব নামে এক কিশোর নিহত হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর দাউদপুরের দুয়ারা এলাকায় ঘুম ভেঙে দেওয়ার কারণে ছোট ভাই জামিল বড় ভাই আশরাফুলকে হত্যা করে। একই বছর ১৩ নভেম্বর ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা এলাকায় তিন কিশোর তাদের বন্ধু কিশোর মাওলাকে হত্যা করে। ২০২২ সালের ১৭ জুন চনপাড়া পুনর্বাসন এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সজল নামে এক কিশোর নিহত হয়। ২০২১ সালের ৩ আগস্ট গোলাকান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সানি নামে এক কিশোর নিহত হয়। ২০২০ সালে কিশোরদের হাতে কায়েতপাড়া এলাকায় আনোয়ার হোসেন ও শিংলাব এলাকায় কিশোর সাইফুল ইসলামের হাতে তার মা দেলোয়ারা বেগম নিহত হন।

কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের মহাসচিব লায়ন মীর আব্দুল আলীম বলেন, ‘কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়া, সামাজিক অবক্ষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর ও যুবকদের মাদকের আগ্রাসন থেকে দূরে রাখতে হবে। মাদকসেবীরা প্রায় সব ধরনের অপরাধে জড়িত হতে পারে।’ কিশোর ও যুবকদের কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘অপরাধী যে বা যারাই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। রূপগঞ্জে কোনো অপরাধীর জায়গা হবে না।’ মাদক, কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধ দমনে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব অপরাধে কয়েকজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতা মো. শহীদ মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ মিয়া (৪০) ও একই এলাকার শাহিন মিয়া।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী নারী তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরেন। সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে কক্ষে রেখে চলে যায়। সন্ধ্যায় তার স্বামী বাড়িতে ফিরে আসলে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বিস্তারিত জানান।

শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/

বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৯ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত
বরগুনার সদর হাসপাতালে নিহত ইব্রাহিমের মরদেহ নিয়ে আসার পর উৎসুক জনতার ভিড়। ছবি: খবরের কাগজ
বরগুনার সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় পাল্টা গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী তৌহিদ ইসলাম শুভ গুরুতর আহত হয়েছেন।
‎শুক্রবার (১২ জুন) ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত ইব্রাহিম হোসেন কালু একই গ্রামের সোনা গাজীর ছেলে। আহত তৌহিদ ইসলাম শুভ একই গ্রামের রহিমের ছেলে।
‎পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। 
‎স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এ হামলার সঙ্গে ইব্রাহিম হোসেন কালু ও তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা ক্ষুব্ধ লোকজন কালু ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়।
‎স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কালুকে ঘিরে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। 
‎তবে কালুর স্বজন ও সমর্থকদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের হওয়া প্রয়োজন।
‎সন্ধ্যায় গুরুতর আহত অবস্থায় কালু ও শুভকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালুকে মৃত ঘোষণা করেন। শুভকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আহত ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
‎এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
‎বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ইব্রাহিম হোসেন কালুর বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্র মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।
‎ওসি বলেন, 'প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধের জেরে ইউপি সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গণপিটুনিতে কালু নিহত হন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।ঝ
 
মহিউদ্দিন অপু/আজহার/

পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
পাবনায় ছেলের সামনে বাবাকে হত্যা, আরও একজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

পাবনা সদর থানা এলাকায় ছেলের সামনে হোসেন আলী নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাইদুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
 
র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন পাবনা সদর থানায় করা চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। পরে শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মতিয়ার রহমান (৪০), শরীফ প্রামাণিক (৩৫) ও মনিরুল ইসলাম (২৮) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর মাছুমবাজার জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মেইন গেইট সংলগ্ন লাইব্রেরির সামনে পাকা রাস্তার ওপর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেখানে নিজ ছেলের সামনেই ভিকটিম হোসেন আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এবং পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি লাল পতাকা এই দুইটি বাহিনীর আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে প্রায় এক মাস আগে হোসেন আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা যোগসূত্র আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী  আফছানা খাতুন (৪৫) বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৯ জনের নামোল্লেখ এবং আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

আমিনুল ইসলাম/খাদিজা রুমি/ 

চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০২:২১ পিএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে বাবাকে হত্যার ২০ বছর পর একইভাবে ছেলেকে হত্যা
ছুরিকাঘাতে নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক রাফসান হোসেন হৃদয় । ছবি: খবরের কাগজ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহকেও একইভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশা নামের দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে দোকান থেকে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে আরেক যুবকের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

এক পর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেলে তার গ্রামের মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও মো. প্রান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়। রাজিব গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

২০০৬ সালে দূর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করে। ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা। 

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজহার/অমিয়/

জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
আপডেট: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
জামালপুরে চাচাকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

জামালপুরে ভাতিজার হামলায় চাচা নিহতের ঘটনায় প্রধান আসামী আব্দুস সালামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১০ জুন) সকালে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আব্দুস সালাম লক্ষীরচর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

বুধবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জামালপুর জেলা পুলিশ।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) পৈত্রিক জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে আব্দুস সালাম ও তার লোকজন তার চাচা আব্দুল হকের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ভাতিজার আঘাতে চাচা আব্দুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে গাজীপুর মহানগরীর গাছা এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি আব্দুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন খবরের কাগজকে বলেন, মাত্র কয়েক দিনেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। 

আসমাউল আসিফ/থিও