ঢাকা ১ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন ডা. জাহেদ ব্রাজিলে দুই হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৬ যে ১১ প্রতিষ্ঠানে দান করলে মিলবে আয়করে ছাড় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা রাউজানে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের এখনো মামলা হয়নি কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিবিসি ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়ে ভালো হবে না: ওবামা গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সুইডিশদের ‘সুইট’ শুরু, সভানবার্গের কীর্তি কালুখালীতে যুবকের হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার দিল্লিতে তীব্র দাবদাহ, চরম দুর্ভোগে মানুষ ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের কষ্টার্জিত জয় গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক চালু হচ্ছে জিপিএস পাকিস্তানের মার্কিন-ইরান চুক্তির খরবে কমল তেলের দাম নেতানিয়াহু ‘অত্যন্ত কঠিন লোক’, বললেন ট্রাম্প রৌমারী সীমান্তে পুশইনের শিকার ৯ জন ২৮ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় ইংল্যান্ডের তুরুপের তাস বেলিংহাম: হেন্ডারসন এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ১ সংসদে বড় দায়িত্ব পেলেন আন্দালিব রহমান পার্থ রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৩ বিশ্ব বয়োজ্যেষ্ঠ নির্যাতন সচেতনতা দিবস আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তি: ১৪ দফার খসড়ায় যা যা থাকছে স্বর্ণের সঙ্গে ‍পাল্লা দিয়ে বাড়লো রুপার দামও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত ৪ দেশ ফের স্বর্ণের দামে বড় লাফ, এবার বাড়ল কত? দেশের ১৩ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ শহরাঞ্চলে অসংক্রামক রোগ দ্রুত বাড়ছে: কর্মশালায় বক্তরা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার খবরে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
Nagad desktop

থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৫, ০১:০৫ পিএম
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করছে সন্ত্রাসীরা। কোথাও কোথাও রাতে গুলি ছোড়া হচ্ছে, কোথায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, আবার কোথাও চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে কাজে লাগানো হচ্ছে এসব অস্ত্র। কোথাও আবার ভাড়া খাটারও তথ্য মিলছে।

সিএমপির থানাগুলো থেকে লুট হওয়া ১৬১টি অস্ত্র বিগত সাত মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে জনমনে একধরনের উদ্বেগ-আতঙ্ক রয়ে গেছে। যেকোনো সময় এসব অস্ত্র ব্যবহার করে খুনসহ বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে সন্ত্রাসীরা, এমনটাই আশঙ্কা করছে পুলিশ ও স্থানীয় জনসাধারণ। 

সম্প্রতি পুলিশও লুট হওয়া অস্ত্র দিয়ে অপরাধ করার প্রমাণ পেয়েছে। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই জামায়াতের কর্মী নিহত হওয়ার আগে তারা নিজেরাই অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেই অস্ত্র নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে অস্ত্রের বডি নম্বর মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। অস্ত্রটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ট্ররাস টিএএইচ মডেলের। ছয় ইঞ্চি ছোট এই পিস্তলের ২টি ম্যাগাজিনে রাখা যায় ১৭ রাউন্ড গুলি। 

জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এটি সিএমপির কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। লুটের এই পিস্তল দিয়ে গুলি করতে করতে একসময় এর সব গুলি শেষ হয়ে যায়। পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া এই অস্ত্র প্রদর্শিত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, থানার পিস্তলের সঙ্গে ওই পিস্তলের সাদৃশ্য রয়েছে। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, থানা থেকে লুট হওয়া ১৬১টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি। 

জানা গেছে, হাসিনা সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট দুপুরের পর সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করেন। ওই দিন নগরের কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, ইপিজেড, খুলশীসহ ৮টি থানা ও ফাঁড়িতে আগুন দেওয়া, ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেই সময় থানাগুলো থেকে প্রায় ৯৪৮টি অস্ত্র, ১২ হাজার গুলি লুট হয়।

এরপর গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্রগুলো জমা দেওয়ার সুযোগ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যারা এসব অস্ত্র নিয়েছেন তারা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে রেখে কল করলেও পুলিশ সেই অস্ত্র উদ্ধার করবে। কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। অনেকে সেটি করলেও কেউ কেউ তা করেনি। তারা অস্ত্র নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে। এরপর শুরু হয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান। সেই অভিযান এখনো চলছে। 

সর্বশেষ গত ১ মার্চ নগরীর পাহাড়তলী রানী রাসমণি ঘাটের গোল চত্বর এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মাঈনুর ইসলাম মামুন (২০) ও মো. জামাল (২৬)।

উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো হচ্ছে পাহাড়তলী থানার মালখানা থেকে লুট হওয়া একটি বিদেশি রিভলবার ও ৬ রাউন্ড বুলেট। এতদিন এই রিভলবার ও বুলেট ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ছিনতাইকারীরা চট্টগ্রাম শহরের রাস্তাঘাট, নির্জন এলাকার পথচারী, রিকশা কিংবা অটোরিকশার যাত্রীদের ছুরি ঠেকিয়ে ওই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই করত। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও তারা নিজেরা এই বিদেশি রিভলবার এবং বুলেটগুলো থানার মালখানা থেকে লুট করেছিল বলে স্বীকার করেছে। 

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরে অস্ত্র উদ্ধারে সবচেয়ে এগিয়ে আছে পাহাড়তলী থানা। গত চার মাসে থানাটি বিভিন্ন অভিযানে ৯ এমএম পিস্তল, রিভলবারসহ বিভিন্ন মডেলের মোট ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে পাহাড়তলীর খালপাড় থেকে দুটি রিভলবার এবং ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা-পুলিশ। এর আগে ৪ নভেম্বর একটি পিস্তল, মোটরসাইকেল ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাহবুবুর রহমান ও নুরনবী নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছে পুলিশের ইউনিফর্ম, হাতঘড়ি, জুতাসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। 

গত বছরের ২৩ নভেম্বর ভোরে পাহাড়তলী থানা-পুলিশ মো. পারভেজ (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরের হাজি ক্যাম্প থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়। বন্দুকটি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র। গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ ওই অস্ত্র দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করছিল। ছড়িয়ে পড়া একটা ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৬ আগস্ট পারভেজ একদল যুবককে নিয়ে একটি এলাকায় অস্ত্র হাতে ভোররাতে ঘুরছে। তার হাতে থাকা অস্ত্রটি একনলা দেশীয় এলজি। 

এ ছাড়া ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মো. মালেক প্রকাশ মাইল্ল্যা (২৫) ও মো. বিজয় (২২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে নামে। এ সময় পাহাড়তলীর নয়াপাড়া রেললাইনের পূর্ব পাশের পোড়া বাড়িসংলগ্ন খালি জায়গা থেকে একটি অস্ত্র ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। 

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অস্ত্রধারী দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই দিন সেখানে অস্ত্র সাপ্লাই দিতে গিয়ে বেলাল হোসেন নামের এক যুবক পাহাড়তলী থানা-পুলিশের কাছে ধরা পড়ে। ওই যুবক জানান, তিনি শুধু অস্ত্র বহন করছিলেন। তাকে আল আমিন নামের একজন হত্যার হুমকি দিয়ে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে দুটি এলজি সলিমপুরের রিদোয়ানের কাছে পৌঁছে দিতে বলে। পথে পুলিশের চেকপোস্টে তিনি ধরা পড়েন।

এদিকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নগরের ফিরিঙ্গিবাজারের ব্রিজঘাট এলাকা থেকে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল এবং ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। 

অন্যদিকে নগরের চান্দগাঁও থানার বাড়াইপাড়া এলাকায় রাতে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। পুলিশ এটা জানলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায়ও চাঁদাবাজি, দখলবাজি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে অস্ত্রের মহড়া চলে। গত ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজান ও ছোট সাজ্জাদের মধ্যে গোলাগুলির প্রস্তুতির সময় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিনসহ ছোরা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে শীর্ষ সন্ত্রাসী মিজান ও ছোট সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। 

পাহাড়তলী থানার ওসি বাবুল আজাদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘কী পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে তা এখনই বলতে পারছি না। তবে আমরা গত চার মাসে ১২টি অস্ত্র ১৬ রাউন্ড গুলি, তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করেছি। প্রত্যেকটি ঘটনায় দু-একজন করে গ্রেপ্তার হয়েছে। অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। চেকপোস্টের মাধ্যমেও তল্লাশি চালাচ্ছি।’ 

অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নানা অপরাধে ব্যবহৃত হওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেছেন, ‘থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো যেন কোনোভাবেই পেশাদার অপরাধীদের কাছে না যায় সে ব্যাপারে আমাদের নিয়মিত তৎপরতা রয়েছে। আমরা গোপনে তথ্য সংগ্রহ করছি কাদের কাছে এসব অস্ত্র যেতে পারে।’ 

নগর পুলিশের জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মাহমুদা বেগম বলেন, নগরে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা গেছে সেই তথ্য দিতে সময় লাগবে। কেননা, অনেক ধরনের অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটা বলতে পারি, অস্ত্র উদ্ধারে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলছে। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও পাওয়া গেছে, কিছু আলামতের অস্ত্রও পাওয়া গেছে।

আমরা সতর্ক আছি যেন এসব অস্ত্র দিয়ে কোনো অপরাধের ঘটনা না ঘটে। পুলিশের এই কর্মকর্তা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে না পারলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর নগরের ৮ থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৩০০ পিস্তলসহ ৯৪৮টি অস্ত্র ও ১২ হাজার গুলি লুট হয়। এর বেশির ভাগ উদ্ধার করা গেলেও এখনো ১৬১টি অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

রাউজানে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের এখনো মামলা হয়নি

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
রাউজানে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের এখনো মামলা হয়নি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৫০) হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলা হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাউজানের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুল হক চৌধুরীকে একদল অস্ত্রধারী প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।

মাসুদুল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন।

রাউজান রাঙ্গুনিয়া দুই উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট  কোনো তথ্য দিতে পারেনি প্রশাসন। 

পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিলিংমিশনে শটগান হাতে থাকা (গোলাপি রঙের শার্ট পরিহিত) সন্ত্রাসীর নাম মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রকাশ ধামা ইলিয়াছ, পিস্তল হাতে থাকা (মাথায় ক্যাপ ও জলপাই রঙের টিশার্ট পরিহিত) ছিলেন মো. ইউছুপ ও দিদারুল আলম (কালো জিন্স প্যান্ট ও জলপাই রঙের টি-শার্ট পরিহিত) এবং শটগান হাতে ছিলেন কালো টিশার্ট পরা আবছার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান হাতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী ছাড়াও মাসুদুল হত্যার মিশনে ব্যাকআপ টিমে ছিল মো. পারভেজ ও মো. আইয়ুব নামের স্থানীয় আরও দুই ‘সন্ত্রাসী’। 

অস্ত্রধারী পাঁচজনসহ মাসুদুল হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া সাতজনই বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর ক্যাডার। 
 
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রের ভাষ্য, ধামা ইলিয়াছ দুর্ধর্ষ প্রকৃতির সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও রাউজান থানায় একাধিক হত্যা মামলা আছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টের হাটে স্ত্রী-কন্যার সামনে সেলিম নামের এক যুবদলকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলিবর্ষণের মুখে মাসুদুল দৌড়ে পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে এসে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তিন অস্ত্রধারী পেছন থেকে এসে লুটিয়ে পড়া মাসুদুলকে আবারও গুলি করেন। ২০ সেকেন্ড পর মুখোশ পরা অস্ত্রধারী এসে আবার মাসুদুলকে গুলি করে দ্রুত চলে যান। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। অপর অটোরিকশা থেকে নেমে সন্ত্রাসীরা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলিতে মাসুদের মাথার মগজ বেরিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) কার্যালয়ের আধা কিলোমিটারের মধ্যেই। হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের একজনের মুখে ছিল কালো মুখোশ। অন্য ব্যক্তিদের চেহারা স্পষ্ট সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের হাতে শটগান দেখা যায়।

যদিও চৌমুহনী বাজারে বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টির বেশি সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। তারপরও সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করছেন না। 

রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার মাসুদুলের মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার চম্পাতলী ঈদগাহ ময়দানে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দিদারুল আলম/ খাদিজা রুমি/ 

কচুয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
কচুয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেপ্তার
কচুয়া থানায় গ্রেপ্তার হওয়া ধর্ষক শাহ আলম। ছবি: খবরের কাগজ

কচুয়া উপজেলার খিলা হাজী বাড়ির শাহ আলমের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১২) তার নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা।

রবিবার (১৪ জুন) মামলার জেরে ধর্ষক শাজাহানকে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে শনিবার (১৩ জুন) রাতে উপজেলার খিলা গ্রাম থেকে ধর্ষক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মার্চ রাত সাড়ে বারোটার সময় মেয়েটিকে শাহ আলম তার বসত ঘরে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে অভিযুক্ত শাহ আলম। শিশুটির মা গত ২৮ মে কুমিল্লায় তার মেয়েকে তার কর্মস্থলে নিয়ে গেলে শিশুটির শরীরের পিঠে, গলায় নখের চিহ্ন দেখতে পান এবং তাকে অস্বাভাবিক মনে হয়। পরে শিশুটিকে তার মা জিজ্ঞাসা করলে সে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের বিষয়টি জানান।

কচুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.রাশেদুল হক জানান, ধর্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।  মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত : চাকুরির সুবাদে মেয়েটির মা কুমিল্লায় বসবাস করত। মেয়েটি উপজেলার রহিমানগর এলাকার একটি মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী হিসেবে সেখানে পড়াশোনা করত। 

সঞ্জীব/নাঈম

খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি
ছবি: খবরের কাগজ

খুলনার দৌলতপুরে মসজিদে ঢুকে দুই মুসল্লিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দুজনেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৪ জুন) ফজরের নামাজের সময় দৌলতপুর বিএল কলেজ রোডে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

​আহতরা হলেন- লোকমান হাকিম (৫৫) ও  আলম শেখ (৫৬)।

স্থানীয়রা জানায়, ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ জামে মসজিদে অন্যান্য মুসল্লিদের সঙ্গে লোকমান হাকিম ও আলম শেখ ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজ চলাকালীন কয়েকজন মসজিদে ঢুকে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা মসজিদে লুটিয়ে পড়েন।

দুজনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লোকমান হাকিমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে  উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। গুলিবিদ্ধ আলম শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। ​পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

মাকসুদ/আমান

মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৩ এএম
মধুখালীতে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের মধুখালীতে রবিউল আউয়াল আলফাদ নামে ওষুধ কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে জখম করে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নওপাড়া বাজার থেকে বাগাট বাজার আঞ্চলিক সড়কের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, একমি কোম্পানির (ভেটেরিনারি ডিভিশন) মধুখালী উপজেলার বিক্রয় প্রতিনিধি রবিউল আউয়াল আলফাদ নওপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে কালেকশন শেষে বাগাট বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে নওপাড়া ইউনিয়নের তারাপুর খেয়াঘাট এলাকায় একাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে কুপিয়ে নগদ তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
 
এ বিষয়ে রবিউল আউয়াল আলফাদ বলেন, ‘সারা দিন মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজার গিয়ে বকেয়া টাকা কালেকশন করি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নওপাড়া বাজার থেকে কালেকশনের টাকাসহ বাগাট বাজারের উদ্দেশে রওনা হই। পথে তারাপুর খেয়াঘাট নির্জন এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে একাধিক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আমাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় আমার কাছে থাকা তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমার চিৎকারে এগিয়ে এসে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।’
 
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায়ের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
 
এ বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান জানান, বিষয়টি জানার পর একজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওই বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

এনকেবি নয়ন/তামান্না রুপা/

সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
সোনারগাঁয় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে যুবদল নেতা মো. শহীদ মিয়াসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তাররা হলেন, জামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ মিয়া (৪০) ও একই এলাকার শাহিন মিয়া।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূক্তভোগী নারী তার স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। গত ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবদল নেতা শহীদ মিয়াসহ কয়েকজন তার মুখ চেপে ধরেন। সন্তানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত ও মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা তাকে কক্ষে রেখে চলে যায়। সন্ধ্যায় তার স্বামী বাড়িতে ফিরে আসলে ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বিস্তারিত জানান।

শুক্রবার সকালে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। 

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

ইমরান হোসেন/খাদিজা রুমি/