ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
Nagad desktop

বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিকাকে হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উন্মোচন

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিকাকে হত্যা, ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উন্মোচন
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ঘাতক প্রেমিক মহাদেব রায়। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে কলেজ ছাত্রী সুলতানা আক্তারের (রত্না) চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। রত্নার প্রেমিক মহাদেব রায়কে গ্রেপ্তারের পর জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সে।

বৃহস্পতিবার (৩১) জুলাই রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায় দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে রত্নার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহ দেখে খবর দিলে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় রত্নার গলায় দাগ পাওয়া যায় এবং তার হাতে মোবাইল ফোনের কাভার ও কাপড়ের ব্যাগ ছিল।

পুলিশ তদন্তে রত্নার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে, যেখানে মহাদেবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও তার সঙ্গে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ ছাড়া রত্নার ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল নাম্বারের কলের ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়।

বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে একই ইউনিয়নের পুণ্ডিপাড়া গ্রামের খোকা বর্মনের ছেলে মহাদেব রায়কে পুলিশ থানা হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে মহাদেব হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, রত্না দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, কিন্তু তার পরিবার অন্যত্র মহাদেবের বিয়ে ঠিক করে ফেলে। এতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়।

ঘটনার রাতে মহাদেব রত্নাকে বাইরে ডেকে নিয়ে বিয়ে নিয়ে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে মোবাইল ফোন ভেঙে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার বলেন, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

দেবীগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সামুয়েল সাংমা বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

এ ঘটনায় গতরাতে নিহতের বাবা রবিউল ইসলাম ঘটনার দিন রাতেই মহাদেব রায়সহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি মহাদেব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মো. রনি মিয়াজী/মাহফুজ

 

হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
হাসপাতালে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে ধর্ষণের শিকার মা
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসা করাতে এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সি এক মা।

রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অমিত নামের এক সুইপার ভুক্তভোগীকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর একই ভবনের ৬ষ্ঠ তলার সিঁড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ওই সময় অপর দুই আসামি গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীকে দেখিয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩)।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী খবরের কাগজকে জানান, গত ৫ জুন রাতে দুই বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি রিকশাচালক হওয়ায় স্ত্রীকে মেয়ের দেখাশোনার জন্য হাসপাতালে রেখে রিকশা চালাতে যেতেন। মাঝেমধ্যে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিতেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল ৮ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী ও মেয়ে নির্ধারিত বেডে নেই। স্ত্রীর কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তিনি তাদের খোঁজ করে জানতে পারেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার স্ত্রী ও মেয়েকে নার্সদের কক্ষে রেখেছেন। সেখানে গেলে স্ত্রীর কাছে ঘটনা জানতে পারেন।

ওসি মনসুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করলে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা জানান, মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

কামাল মৃধা/থিও/

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন
অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম। ছবি: খবরের কাগজ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের হাতে খুন হয়েছেন মা রিজিয়া বেগম (৯৮)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্যধুসুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিজিয়া বেগম (৯৮) মধ্যধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহানের স্ত্রী। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগম (৬০) নিহতের মেয়ে এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার হাটিপাড়া এলাকার মৃত মালেকের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বটি দিয়ে রোকেয়া বেগম তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি তার বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাসেলকে ডেকে জানান, তার দাদি মারা গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় রিজিয়া বেগমের মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই রোকেয়া বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।

নিহতের নাতি রাসেল খবরের কাগজকে জানান, তার ফুপু নিজেই তাদের ডেকে বলেন যে তিনি তার দাদীকে আঘাত করেছেন এবং পুলিশ ডাকতে বলেন।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন খবরের কাগজকে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

আসাদ জামান/থিও

আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
লিয়াকত আলী লাদেন। ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামের এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিয়াকত আলী লাদেন বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া গ্রামের রাব্বির সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়ে লাদেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে লাদেন ক্ষুব্ধ হয়ে রাব্বিকে চড় দেন। এতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে রাতে লাদেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, 'পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে'।

এমআই বকুল/থিও

বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১
লিয়াকত আলী। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়ার ওমান প্রবাসী ওমর ফারুক (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

রবিবার (৭ জুন) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেফতার লিয়াকত আলী ও নিহত ওমর ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চরে একটি লিচু বাগান থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীর প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি নিখোঁজ ওমান প্রবাসী ওমর ফারুকের বলে শনাক্ত করা হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি-না, তা  খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রবাসী ফারুককে কেন এবং কী কারণে এত নিখুঁত পরিকল্পনায় পাহাড়ের নির্জন লিচু বাগানে নিয়ে হত্যা করা হলো, তা জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ বছর ধরে চরম অর্থকষ্ট আর পাহাড়সম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিন সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছিলেন মা গুলতাজ বেগম। ভেবেছিলেন, সুদিন বুঝি এবার এল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই সুখের দেখা পাওয়ার আগেই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ফারুকের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কয়েকদিন পরই সন্তানের জন্ম দিতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। যে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখবে, সে আর কোনোদিন তার বাবাকে ডাকতে পারবে না—এই নির্মম সত্য যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।

নিহত ওমর ফারুক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকার ওসমান আলীর মেঝ ছেলে। প্রায় সাত বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি ফারুক। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। 

নিহত ফারুকের মা বুকফাটা কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন “আজ সুখের সময় কেন আমার বুকের মানিককে এভাবে হত্যা করা হলো! আমার ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আর কয়েকদিন পরই সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। সেই শিশুটি তার বাবাকে কোথায় পাবে?

মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, যেহেতু মরদেহটি বোয়ালখালী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই মূল মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়া বোয়ালখালী থানাতেই সম্পন্ন হবে। ঘটনার সুষ্ঠু রহস্য উদ্ঘাটনে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বোয়ালখালী পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে এবং একটি ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে।

এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুকের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নিহত ফারুকের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

তৈয়্যবুল ইসলাম/নাঈম