ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২ দেশের ১৬ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস পড়ে পাওয়া গল্প থেকে ৭টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ইরান-ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হলেও হুমকি চলছে
Nagad desktop

বিএনপি নেতা মুসাব্বির হত্যা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-আধিপত্য সামনে রেখে তদন্তে পুলিশ

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
বিএনপি নেতা মুসাব্বির হত্যা: রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-আধিপত্য সামনে রেখে তদন্তে পুলিশ
আজিজুর রহমান মুসাব্বির

কয়েক দিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি পরিবারকে বললেও তিনি থানায় কোনো জিডি বা অভিযোগ করেননি। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নিহত হলেন মুসাব্বির। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হন কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে ঘটনাস্থল ও আশপাশের একাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তসংশ্লিষ্টরা। 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে থেকে মুসাব্বিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কদিন ধরেই মুসাব্বির বলেছিলেন, আমার অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যেকোনো সময় আমাকে মেরে ফেলতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দুর্বৃত্তরা যখন মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তখন তিনি প্রাণে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় মুসাব্বির বলছিলেন, ‘তোরা আমার এ কী করলি..রে…।’  

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকারীরা আগে থেকে এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা মুসাব্বিরের পরিচিত ছিলেন। গুলি চালানোর সময় মুসাব্বির হয়তো দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলেছিলেন। ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ৭ দশমিক ৬৫ বোরের তিনটি গুলির খোশা উদ্ধারসহ অন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং র‌্যাব সমন্বিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই হামলার মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এতে এক পক্ষের আধিপত্য কিছুটা কমে যায়। এ ছাড়া ফার্মগেট এলাকায় একটি গ্যারেজ দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।

মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের পেছনে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান খবরের কাগজকে বলেন, বিএনপি নেতা মুসাব্বিরের কনুইতে একটি এবং পেটে একটি গুলি লাগে। আবু সুফিয়ানের একটি গুলি লেগেছে তার পেটে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭ দশমিক ৬৫ বোরের বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অস্ত্রধারী দুজনকে দেখা গেছে। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, এলাকার আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ সব দিক মাথায় রেখে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ডিসি ইবনে মিজান। 

এর আগে বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের স্টার কাবাবের পেছনে তেজতুরি বাজার এলাকার আহছানউল্লা টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (এআইটিভিইটি) ইনস্টিটিউটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন মুসাব্বির এবং আবু সুফিয়ান। পরে তাদের উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিলে মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

যা দেখা গেল সিসিটিভি ফুটেজে
মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে পুলিশ জানায়, ফুটেজে দেখা গেছে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে বসে ছিল দুজন দুর্বৃত্ত। স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মুসাব্বির ও সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ একসঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মুসাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তার আড়াল থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে মুসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার হাতে থাকা মোবাইলফোন মাটিতে পড়ে যায়। মুসাব্বির আবার উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখনো গুলি চালানো হচ্ছিল। দুর্বৃত্তদের একজন কিছুক্ষণ থেমে মাটিতে পড়ে থাকা মুসাব্বিরের মোবাইলফোনটি তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গতকাল ঘটনাস্থলে আলাপকালে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে একটি গুলি করে, সেটি লাগেনি। এ সময় তিনি পাশের একটি গলির ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। ওই গলিতে বের হওয়ার পথ না থাকায় তিনি অন্য গলিতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় আরেক দফা গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। মুসাব্বিরের গায়ে গুলি লাগলেও তিনি দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। একটা গালি দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোরা আমার এ কী কর..লি রে…।’ গলির মাথায় একটি দোকানের সামনে মুসাব্বির মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যান। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ সুফিয়ান ব্যাপারী পেটে হাত দিয়ে ক্ষত চেপে ধরে সেখানে পড়ে যান। দুর্বৃত্তরা এলাকা ছেড়ে তখন মূল সড়কে উঠে পালিয়ে যায়। 

থানায় মামলা
মামলার এজাহারে মুসাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম উল্লেখ করেন, বুধবার ৭ জানুয়ারি রাতে কাওরান বাজারের সুপারস্টার হোটেলের দ্বিতীয় তলায় প্রতিদিনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন মুসাব্বির। আড্ডা শেষে ৮টা ১০ মিনিটে মাসুদকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ৮টা ২০ মিনিটে তেজতুরি বাজারে আহসানউল্লাহ ইনস্টিটিউটের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন তাদের গতিরোধ করে পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে মুসাব্বিরের ডান হাতের কনুই, পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। রক্তাক্ত জখম নিয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ এগিয়ে গেলে তাকেও গুলি করে হামলাকারীরা।

গতকাল তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৈশন্যু মারমা বলেন, সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য ইউনিটও কাজ করছে। 

নয়াপল্টনে মুসাব্বিরের জানাজা-আজিমপুর গোরস্তানে দাফন
গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর, যুববিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী শফু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসিন আলীসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে মুসাব্বিরের লাশ কারওয়ান বাজারে তার বাসভবন গার্ডেন ভিউতে নেওয়া হয়। বাদ আছর কারওয়ান বাজারে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মুসাব্বিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত তারা যারাই হোক, গ্রেপ্তার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। 

এদিকে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল। 

আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
আদিতমারীতে মাদরাসাছাত্র লাদেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
লিয়াকত আলী লাদেন। ছবি: খবরের কাগজ

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লিয়াকত আলী লাদেন (১৬) নামের এক মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সারপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিয়াকত আলী লাদেন বালাটারী গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া গ্রামের রাব্বির সঙ্গে সামান্য বিষয় নিয়ে লাদেনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাব্বি তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলে লাদেন ক্ষুব্ধ হয়ে রাব্বিকে চড় দেন। এতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক মীমাংসা করে দেন।

তবে ওই ঘটনার জের ধরে রাতে লাদেনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির বড় ভাই রকি পেছন দিক থেকে তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক খবরের কাগজকে বলেন, 'পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে'।

এমআই বকুল/থিও

বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
বোয়ালখালীতে প্রবাসীকে হত্যায় গ্রেপ্তার ১
লিয়াকত আলী। ছবি: সংগৃহীত

রাঙ্গুনিয়ার ওমান প্রবাসী ওমর ফারুক (৩৫) হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিয়াকত আলীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত।

রবিবার (৭ জুন) রাতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেফতার লিয়াকত আলী ও নিহত ওমর ফারুক একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চরে একটি লিচু বাগান থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় মরদেহের হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীর প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের সদস্য এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি নিখোঁজ ওমান প্রবাসী ওমর ফারুকের বলে শনাক্ত করা হয়।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে অভিযুক্ত। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো চক্র বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি-না, তা  খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রবাসী ফারুককে কেন এবং কী কারণে এত নিখুঁত পরিকল্পনায় পাহাড়ের নির্জন লিচু বাগানে নিয়ে হত্যা করা হলো, তা জানতে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

নিহতের পরিবার আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

তৈয়্যবুল ইসলাম/তামান্না রুপা/

বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
বোয়ালখালীতে ওমান প্রবাসীকে হত্যা: শোকে পাথর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও মা
ছবি: খবরের কাগজ

বিশ বছর ধরে চরম অর্থকষ্ট আর পাহাড়সম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিন সন্তানকে বুকে আগলে বড় করেছিলেন মা গুলতাজ বেগম। ভেবেছিলেন, সুদিন বুঝি এবার এল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই সুখের দেখা পাওয়ার আগেই স্তব্ধ হয়ে গেল একটি পরিবারের সব স্বপ্ন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকার একটি লিচু বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওমান প্রবাসী মো. ওমর ফারুকের (২৫) হাত-পা বাঁধা মরদেহ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বোয়ালখালীর জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার একটি পাহাড়ি লিচু বাগানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ফারুকের মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় একদিকে বুকফাটা আর্তনাদে মূর্ছা যাচ্ছেন মা, অন্যদিকে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন কয়েকদিন পরই সন্তানের জন্ম দিতে যাওয়া তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। যে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখবে, সে আর কোনোদিন তার বাবাকে ডাকতে পারবে না—এই নির্মম সত্য যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না পরিবারটি।

নিহত ওমর ফারুক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া সরফভাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকার ওসমান আলীর মেঝ ছেলে। প্রায় সাত বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেড় বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন এবং বিয়ে করে নতুন সংসার জীবন শুরু করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন (মঙ্গলবার) বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি ফারুক। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস মেলেনি। 

নিহত ফারুকের মা বুকফাটা কান্না জনিত কণ্ঠে বলেন “আজ সুখের সময় কেন আমার বুকের মানিককে এভাবে হত্যা করা হলো! আমার ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা, আর কয়েকদিন পরই সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখবে। সেই শিশুটি তার বাবাকে কোথায় পাবে?

মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, যেহেতু মরদেহটি বোয়ালখালী থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাই মূল মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়া বোয়ালখালী থানাতেই সম্পন্ন হবে। ঘটনার সুষ্ঠু রহস্য উদ্ঘাটনে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ বোয়ালখালী পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে এবং একটি ছায়াতদন্ত চালাচ্ছে।

এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় এলাকাবাসী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুকের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ। নিহত ফারুকের পরিবার ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক।

তৈয়্যবুল ইসলাম/নাঈম

হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের
হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিহতের স্বজনরা। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে হেলাল উদ্দিন (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে পৌরশহরে উপজেলা ভূমি অফিসের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেলাল পৌর শহরের কাঁচারীপাড়া এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেলালের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ওই যুবকেরা। এ অবস্থায় সে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নিতে চাইলে ঘাতকরা সেখানেও তার ওপর হামলা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তারা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হেলালকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট সার্কেল এএসপি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/নাঈম

রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
রামুতে জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে পাহাড়তলী এলাকার আলোচিত আসিফ ও হৃদয় হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে রামু উপজেলার উখিয়ার ঘোনা (গনিয়া কাটা) এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক।

গ্রেপ্তার জিয়া কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকার মৃত নজির আহমেদের ছেলে।

আ ম ফারুক জানান, গত ২ জুন রাতে পাহাড়তলী এলাকার ইসলামপুরে আসিফ ও হৃদয় নামে দুই যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আসিফের বাবা মো. ইসমাইল বাদী হয়ে ৫ জুন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জিয়া আত্মগোপনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তার অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ জোড়া হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দুটি হত্যা মামলা, একটি মাদক মামলা এবং বিভিন্ন অভিযোগে মোট আটটি মামলা রয়েছে।

তারেকুর রহমান/খাদিজা রুমি/