চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনার চার দিন পর মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে মামলাটি করেন র্যাবের এক কর্মকতা।
মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ ও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে ইয়াসিন মিয়াকে। ইয়াসিন দীর্ঘদিন জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
আটকরা হলেন, এজাহার নামীয় জাহিদ, ইউনুস ও আরিফ। তারা সবাই জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সোহেল রানা বলেন, গত সোমবার বিকেলে সন্ত্রাসীরা র্যাবের উপর হামলা করে। এ সময় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হন। অপর তিন সদস্যকে ঘটনাস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় র্যাব সদস্যদের চারটি পিস্তল নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ওই রাতেই সোর্সের মাধ্যমে পিস্তলগুলো উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকালে ইয়াছিন আলীনগরে তার পুরাতন কার্যালয়ে কথিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে মূলধারার কোনো সাংবাদিক অংশ না নিলেও কয়েকজন ভুঁইফোড় সাংবাদিক অংশ নেন।
এ সময় ভিডিওতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘প্রশাসন কাকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার জঙ্গল ছলিমপুরে আসে সেটি স্পষ্ট করেনি। তারা কোনো আসামির নাম বলেনি। তবে আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি আমার এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
এছাড়া চট্টগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক মুমিনুল হককে নিয়েও বিষোদগার করেন সন্ত্রাসী ইয়াছিন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন তাদের কোনো আসামি জঙ্গল সলিমপুরে থাকলে আমাকে জানাতে হবে। তারা নারী-পুরুষ কাউকে হয়রানি করতে পারে না, যেমনটি ডিসি মুমিন করেছিলেন। আমরা সেটি হতে দেব না। ডিসি মুমিন আমাকে উচ্ছেদ করতে চেয়ে আজ সে নিজেই উচ্ছেদ হয়ে গেছে। সে কোথায় যাবে নিজেও কূল পাচ্ছে না। অথচ আমি আমার জায়গায় ঠিকই আছি। আমি কোথাও যাইনি। তাই প্রশাসনকে বলব, জঙ্গল সলিমপুরে কারও ফাঁদে পা দিয়ে অহেতুক কোনো ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাইলে প্রশাসনকে বিপদে পড়তে হবে।’
এ সময় ইয়াছিন বলেন, আমাকে কেউ জঙ্গল ছলিমপুর থেকে উচ্ছেদ করতে পারবে না। এগুলো আমার নিজস্ব বাড়ি-ঘর।
জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় গত চার দশকে পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে দেড় লাখেরও বেশি অবৈধ বসতি। এই দখলদারত্ব ও প্লটবাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র বাহিনী।
জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারীদের জন্য বিশেষ পরিচয়পত্র রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একাধিকবার সেখানে অভিযান চালানোর সময় সশস্ত্র হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী ও তাদের অবৈধ আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত ৭৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা যেকোনো মূল্যে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।
গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে থাকা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয় মাইকে ঘোষণা দিয়ে। হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নেন বলে জানায় র্যাব। এতে মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামের এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও তিন র্যাব সদস্য।
মুসলেহ উদ্দীন/অমিয়/