ঢাকার ধামরাইয়ে বিসমিল্লাহ্ অটো রাইস মিল থেকে লুট হওয়া ১৭১ বস্তা চাল ও ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকসহ পুলিশের বিশেষ অভিযানে চার ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। আসামীদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধামরাই থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২৬ জানুয়ারি ভোররাতে ১০/১২ জন ডাকাত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখে মাস্ক পড়ে মিলের দেয়াল টপকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা মিলের নিরাপত্তা কর্মী হযরত আলীকে বেধে মারধর করে এবং মিলের মুল ফটক খুলে একটি ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করান। পরে ডাকাত দল জোড়া ইলিশ ও জোড়া আনারস মার্কার ২৫ কেজি ওজনের ৬৩৩ বস্তা চাল নিয়ে যায়। যার বাজার মূল্য ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫ শত টাকা। শুধু তাই নয় নিরাপত্তা কর্মীদের ৫টি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় ডাকাতরা।
পরদিন সকালে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান, পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওই ডাকাতির ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পরই ওসি নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে এস আই কাউসার সুলতান অভিযানে নেমে পড়েন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৭৫৯৯।
এরপর থেকে থেমে থাকেনি পুলিশের অভিযান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহানগর দক্ষিণ খান থানার আম বাগান এলাকা থেকে শাহাজল (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে ভিত্তি করে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়া (৪১), ফরহাদ (৪৫) ও আলমগীর (৩০) নামে বাকি তিন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন থানায় তাদের নামে প্রায় ১৪ টি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ধামরাই পৌর শহরে বিসমিল্লাহ্ অটো রাইস মিল থেকে চাউল ডাকাতির ঘটনায় আমরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আরও ১৭১ বস্তা চাল তারা বিভিন্ন খুচরা দোকানে বিক্রি করছে, তাই সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামীরা বড় একটি চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
রুহুল আমিন/নাঈম