পদ্মা-মেঘনাবিধৌত শরীয়তপুর জেলায় অবাধে জাটকা নিধন ও জেলা সদরসহ সব হাটবাজারে প্রকাশ্যে তা কেনাবেচা হচ্ছে।
সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৮ মাস জাটকা ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ সময় জাটকা ধরা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে। এর পরও শরীয়তপুরের নদনদীতে জাটকা নিধন হচ্ছে এবং জেলার ছোট-বড় সব হাটবাজারে প্রতিদিন তা পাইকারি ও খুচরা মূল্যে ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে।
জাটকা ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে জেলায় তালিকাভুক্ত ১৫ হাজার ৬৪০ জন জেলের মধ্যে জনপ্রতি মাসিক ৪০ কেজি চাল প্রদান করা হচ্ছে বলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন।
জেলায় অবাধে জাটকা নিধন ও কেনাবেচা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কার্যক্রম মূলত নদীকেন্দ্রিক। জেলার আশপাশের নদনদীগুলোতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। লোকবল সংকটের কারণে হাট-বাজারগুলোতে আমরা সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। হাট-বাজারগুলোতে যে জাটকা বেচাকেনা হচ্ছে তা লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল থেকে আসে।
এ প্রসঙ্গে পালং বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা জাটকা ইলিশ নিয়ে আসেন এবং প্রকাশ্যে তা ক্রয়-বিক্রয় করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোসাইরহাট উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত কয়েকজন জেলে জানান, মৎস্য বিভাগ ৪০ কেজি চাল প্রদানের কথা বললেও আমরা তালিকাভুক্ত সব জেলে তা পাচ্ছিনা না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা জাটকা শিকারের জন্য নদীতে নামি।
সূত্র: বাসস