নারীঘটিত কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব ইসলামকে (২১) কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহবাগ থানার পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাকিবকে হত্যার ঘটনায় হামলাকারী এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে সাধারণ জনতা। পরে ওই যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আরও দুজনকে শনাক্তের পর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
বিরোধের বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, একাধিক প্রেমের সম্পর্ক ও হামলাকারীদের একজনের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানোর চ্যালেঞ্জ করার ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয় বলে জানা যায়। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, অন্য একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাদক কারবারের কথা জেনে যাওয়ায় পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, পরে গ্রেপ্তার করা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে নারীঘটিত কোনো বিষয় রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাকিবের বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাকিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ১০টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি গুলি মাথার ডান পাশে কানের ওপর দিয়ে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। দ্বিতীয় গুলিটি পিঠের ডান পাশ দিয়ে শরীর ভেদ করে।
গতকাল ঢামেক মর্গের সামনে রাবিকের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাকিবের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, ‘বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে জান্নাত মুন নামে অন্য এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গ আমার স্বামীর পরিচয় হয়। এরপর থেকে জান্নাত আমাদের বাসায় যাতায়াত করতেন। সে সময় রাকিব জানতে পারে ওই নারী কার সঙ্গে যেন ফোনে মাদক পরিবহনের বিষয়ে কথা বলতেন। এ বিষয়টি নিয়ে জান্নাতের বয়ফ্রেন্ড আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ওই ঘটনার কিছুদিন পরে ফেসবুকে কমেন্ট করা নিয়েও মুনের বয়ফ্রেন্ড আবারও হুমকি দেয় রাকিবকে। এরপর কাজের প্রস্তাব দিয়ে খিলগাঁও ডাকলে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন গুলি করে হত্যার হুমকি দেয়। গত রবিবার রাতে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে শহিদ মিনার এলাকায় দেখা করতে গেলে হুমকি দেওয়া ওই ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে রাকিবকে হত্যা করে থাকতে পারে।’
ছেলের মৃত্যুতে আহাজারি করতে করতে রাকিবের মা রাজিয়া বেগম জানান, তার বুকের মানিককে সন্ত্রাসীরা কেড়ে নিয়েছে। রাকিবের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। কোনো ঝগড়া-বিবাদও ছিল না। কী কারণে তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, তিনি জানেন না। সরকারের কাছে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে রাকিবকে গুলি করে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা। ঘটনার পর কয়েকজন পথচারী তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
রাকিব পুরান ঢাকার শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পুরান ঢাকার বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী হাবিবাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। রাকিবের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর থানার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে। রাকিবের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের অফিস সহায়ক। তার মা শেখ বোরহানুদ্দিন কলেজের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার অফিস সহায়ক।