নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় গাছের ডাব পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে মো. আল মামুন (১৯) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী চাচাতো ভাই ও চাচার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর এলাকায় হত্যার এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আল-মামুন ওই এলাকার মৃত মোমেন মিয়ার ছেলে, তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার প্রতিবেশী ইসমাইলের ছেলে আজিজুল ও হযরত আলীরা নিহত মামুনদের গাছ থেকে ডাব পাড়েন। তখন আজিজুলদের গাছ থেকেও ডাব পাড়া হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলেও বিরোধের রেশ থেকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, এর জের ধরে বৃহস্পতিবার মামুনের মা সালমা বেগমকে মারধর করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। এরপর আজ সকালে আজিজুল কৌশলে মামুনকে গালিমপুর এলাকার মোরশেদ নামে একজনের ইটভাটায় ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান আজিজুল, হযরত আলী ও তাদের বাবা ইসমাইল এমন অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে মামুন নিজেই স্বজনদের কাছে এভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়ে গেছেন বলে দাবি পরিবারের।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খায়রুল আলম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মামুনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে এর আগে বুধবার রাতে নিহত মামুনদের বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এ বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শাওন খন্দকার/নাঈম