ঢাকার ধামরাইয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে এর ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনার মামলার আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয় পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার পাঠানটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ধামরাই থানায় মামলা করেন। মামলার সূত্রে ধামরাই থানার পুলিশ আসামি ধরতে গেলে আসামি যুবদল নেতা সৈয়দ নাইম ইসলাম ও ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ প্রান্ত পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে পোশাক ছিড়ে লাঞ্ছিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- পাঠানটোলা এলাকার সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত ও পুলিশের ওপর হামলাকারী যুবদল নেতা সৈয়দ নাইম ইসলাম।
পুলিশের প্রায় ৪০ সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পাঠানটোলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। প্রতারণা করে তাকে ধর্ষণ করে সৈয়দ ইউসুফ প্রান্ত। এই ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিক বার ধর্ষণ করে প্রান্ত। এছাড়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন প্রান্ত।
এই ঘটনায় পরিবারের লোকজনকে নিয়ে ভুক্তভোগী প্রান্তর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বুধবার পুলিশ প্রান্তকে গ্রেপ্তার করতে গেলে প্রান্ত ও নাইম তার সহযোগীদের নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
পরে খরব পেয়ে ধামরাই থানা থেকে প্রায় ৪০ জন পুলিশ গিয়ে প্রান্ত ও নাইমকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান খবরের কাগজকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে প্রান্তকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় প্রান্ত ও নাইম তাদের ওপর হামলা চালায়। পরবর্তীতে বাড়তি ফোর্স গিয়ে প্রান্ত ও নাইমকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার ধারা এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
রুহুল আমিন/অমিয়/