ছুরিকাঘাতে নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালক রাফসান হোসেন হৃদয় । ছবি: খবরের কাগজ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে রাফসান হোসেন হৃদয় (২৪) নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে হৃদয়ের বাবা হেদায়েত উল্লাহকেও একইভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (১০ জুন) রাতে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্লাহ হেদুর ছোট ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে শাকতলা গ্রামের আসিফ ও বাদশা নামের দুই যুবক মোটরসাইকেলে করে দোকান থেকে তেল নিতে যাচ্ছিলেন। পথে ঘোষতল এলাকার প্রান্ত নামে আরেক যুবকের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
এক পর্যায়ে ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত ফোন করলে তিনটি মোটরসাইকেলে তার গ্রামের মো. রাজিব, রিফাত হোসেন ও মো. প্রান্তসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন বাজারে এসে অবস্থান নেন। এ সময় শাকতলা গ্রামের কয়েকজনকে বাজারের ওয়াসিমের গ্যারেজের সামনে পেয়ে মারধর করা হয়। রাজিব গ্যারেজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাকতলা গ্রামের অটোরিকশাচালক রাফসান হোসেন হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় হৃদয়কে ধোড়করা বাজারের একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২০০৬ সালে দূর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাতে ও ড্রিল মেশিনের আঘাতে হেদায়েত উল্লাহ হেদুকে হত্যা করে। ২০ বছর পর তার ছেলে রাফসান হোসেন হৃদয়কেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজহার/অমিয়/