বাঘের বিয়ে
মো. তাইফুর রহমান
কী আনন্দ! কী আনন্দ!
আজকে বাঘের বিয়ে,
সিংহ এল দামি দামি
গহনা কাঁধে নিয়ে।
জামা-কাপড় নিয়ে বানর
হাজির বাঘের কাছে,
ময়না, শালিক, ঘুঘু, টিয়া
নাচে গাছে গাছে।
শিয়াল পণ্ডিত বেজায় খুশি
আনল বাজার করে,
বাঘের বিয়ে! বনে বনে
গেল সাড়া পড়ে।
আসছে হাতি সেজেগুজে
মজা করে খাবে,
কোরমা-পোলাও, মিষ্টি-দধি
মিস করা কি যাবে!
ভালুক, হরিণ ব্যস্ত অনেক
গল্প-আড্ডায় মাতে,
আজকে বাঘের বিয়ে হবে
জোছনা মাখা রাতে।
ঝকমকে রয় তবু
হোসাইন মোস্তফা
কুকুর ছানা, বেড়াল ছানা
দাঁত মাজে না কভু,
হয় না দাঁতে ক্যাভিটি তো
ঝকমকে রয় তবু!
তারাও পেট ভর্তি করে
মাংস এবং মাছে,
দাঁতের ব্যথায় হয় না যেতে
ডেন্টিস্টের কাছে।
দাঁতের ভেতর হয় না পোকা
হয় না শিরশিরানি,
রোজ সকালে ব্রাশ করাতে
নেইকো টানাটানি।
যুগ কেটে যায় মাস কেটে যায়
আর কেটে যায় রাত,
শুনেছ কি বেড়াল-কুকুর
তার পড়ে যায় দাঁত?
সোনার ডিম
আল আমিন মুহাম্মাদ
এক ছিল চাষি, তার এক ছিল হাঁস;
সেই হাঁসে ডিম দিত, তাকে বারো মাস।
এই ডিম সোনা ডিম কত তার দাম?
ঝরায় না চাষি তাই কপালের ঘাম।
ডিম বেচে বেচে চাষি হয় বড় ধনী,
মন তবু ভরে নাকো ঘাড়ে চাপে শনি।
আরও বড় ধনী হব, উপায় কী তার?
একসাথে সব ডিম লাগবে আমার।
হাঁসটির পেট কাটে চাষি লোভে পড়ে,
চোখ মেলে চেয়ে দেখে, হাঁস গেছে মরে।
ও চাঁদ মামা
কোমল দাস
ও চাঁদ মামা দূর আকাশে
তোমার আলো জ্বেলে,
বলো তুমি কেন বেড়াও
লুকোচুরি খেলে?
কাছে এসে কেন তুমি
দাও না বলো আলো?
বুঝতে পারো আসলে কাছে
হতো কত ভালো?
কাছের আলো পেলে তাতে
পড়তাম রোজ রাতে,
বন্ধু হয়ে কাছে এসে
থাকবে আমার সাথে?
গল্প বলব রোজই তোমায়
বন্ধু আমার হলে?
আমি যা খাই খাওয়াব তা
নিয়ে আমার কোলে।
রাঙা হেমন্ত
শফিকুল আলম টিটন
হেমন্ত আজ আকাশ নীলে
হিমেল বায়ু ঢালে,
মন ভরে যায়, প্রাণ ছুটে যায়
হেমের তালে তালে।
উড়ন্ত মেঘ ভেলায় চড়ে
সফেদ ফেনার হাসি,
চাষার মুখে আনন্দ আর
স্বপ্ন রাশি রাশি।
নতুন ধানের গন্ধে পাড়া-
গ্রামবাসীরা কাত,
আমার গাঁয়ে নবান্ন এক
জোছনা মাখা রাত।
কৃষক বধূ রৌদ্রে ছড়ায়
উঠোন জুড়ে ধান,
হেমন্ত রাঙে কনক ধানে
শান্তি অফুরান।
মেহেদী